চারঘাটে এমপির প্রভাব খাটিয়ে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
চারঘাটে এমপির প্রভাব খাটিয়ে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো:

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের মিরকামাড়ি এলাকায় এমপির প্রভাব খাটিয়ে তিন ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম রবিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) জালাল উদ্দিনের সহযোগিতায় প্রায় এক মাস ধরে রাতের আঁধারে এই খননকাজ চলছে। প্রশাসন দুই দফা অভিযান চালিয়েও খনন কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিন প্রায় আট বিঘা তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের জমির পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজনের জমি লিজ নিয়ে এই খননকাজ শুরু করেন। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এক্সকাভেটর, ট্রাক্টর ও ট্রাক ব্যবহার করে মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজ ধানের ক্ষেতের মাঝখানে বড় পরিসরে পুকুর খনন চলছে। ইতোমধ্যে পুকুরের উত্তর-পশ্চিম অংশের বড় অংশ খনন সম্পন্ন হয়েছে। খননস্থলের পাশেই রয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপ, যেখান থেকে স্থানীয় কৃষকরা সেচ সুবিধা নিয়ে থাকেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের ফলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আশপাশের আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে ভারি যানবাহনে মাটি পরিবহনের কারণে এলাকার নতুন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “ক্ষমতার দাপটে কৃষিজমি নষ্ট করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চাষাবাদের জমি থাকবে না।”

আরেক বাসিন্দা আসকান অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও রাতভর মাটি কাটা হচ্ছে। এক্সকাভেটর আর ট্রাকের শব্দে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।”

অভিযোগের পর গত ২১ এপ্রিল প্রথম দফায় অভিযান চালান চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান। সে সময় একটি এক্সকাভেটরের ব্যাটারি খুলে সেটি অচল করে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, সেদিন সন্ধ্যার পরই আবার খনন শুরু হয়। পরে ৫ মে দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করা হলেও কাজ বন্ধ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় অভিযানের সময় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী জালাল উদ্দিন সহকারী কমিশনারকে ফোন করে অভিযান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে জালাল উদ্দিন বলেন, “আমি কাউকে ফোন করিনি, বিষয়টি সম্পর্কেও কিছু জানি না।”

তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান বলেন, “আমি দুইবার অভিযান পরিচালনা করেছি। দ্বিতীয়বারের সময় এমপি স্যারের পিএ ফোন দিয়ে বলেছিলেন, আর খনন হবে না। এরপরও কাজ চললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম রবিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, “কে আত্মীয়, কে নয় সেটা বড় কথা নয়। শুধু চারঘাট নয়, সারা রাজশাহীতেই পুকুর কাটা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসন দেখবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।