আকামা নবায়নে স্বস্তি, সহজে কফিল বদলের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরা
সূত্রঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য আকামা (ইকামা) নবায়ন নিয়ে বড় স্বস্তির খবর এসেছে। এখন থেকে কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা (কফিল) আকামা নবায়ন না করলে কর্মীরা দ্রুত অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো আইনগত জটিলতায় পড়তে হবে না।
মঙ্গলবার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকৌশলী ওয়ালিদ আব্দুল করিম আল-খুরেইজি এ তথ্য জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত তিনটি শ্রমসংক্রান্ত চুক্তির মধ্যে ডোমেস্টিক কর্মী ও এসভিপি (SVP) চুক্তি নবায়নের অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশ অনুমোদিত নতুন কর্মী নিয়োগ চুক্তিটি দ্রুত সৌদি সরকারের অনুমোদনের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যৌথ কারিগরি কমিশনের (জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিশন) সভা আয়োজনের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আরবি ভাষা শিক্ষা, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এবং প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন জোরদারের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে দেশে একটি ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ সহজ করতে কারিগরি ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির একটি কাঠামো তৈরির আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট (ভিসা) এবং আকামা ইস্যু ও নবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিটের বাড়তি ফি দেখিয়ে কিছু নিয়োগকর্তার বিলম্বের বিষয়টি সমাধানে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশি কর্মীরা যেমন সৌদি আরবের উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তেমনি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করছেন। তিনি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষাজ্ঞানের বিষয়টি উল্লেখ করে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালের সৌদি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সৌদির সফর কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশের প্রস্তাবের জবাবে সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম ও বীমা সুবিধা চালু রয়েছে। এছাড়া সফর কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠানো হলে সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে/বিএম২৪








