শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আগুন: নাশকতা নয়, শর্ট সার্কিটই কারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে গত অক্টোবর মাসে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন আজ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে—ঘটনাটি নাশকতা নয়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, তদন্ত কমিটি আগুনের উৎস, বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। ৯৭ জন সাক্ষীর মৌখিক ও লিখিত সাক্ষ্য এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
কার্গো শেডে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কার্গো শেডের ভেতরে বিভিন্ন কুরিয়ার এজেন্সির জন্য নির্ধারিত ছিল ৪৮টি ছোট লোহার খাঁচা-নির্ভর অফিস। কিন্তু এসব অফিসে সবচেয়ে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা—
ফায়ার অ্যালার্ম,
স্মোক ডিটেক্টর,
স্প্রিংলার সিস্টেম,
অগ্নিনির্বাপক হাইড্রেন্ট—
কোনোটিই ছিল না।
এ ছাড়া কোনো নিরাপত্তা বিধি না মেনে বিপজ্জনক দাহ্য পণ্য সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল—
পলিথিনে মোড়ানো কাপড়ের রোল,
রাসায়নিক পদার্থ,
পারফিউম ও বডি স্প্রের সংকুচিত বোতল,
ইলেকট্রনিক যন্ত্র,
ব্যাটারি,
ওষুধজাত কাঁচামালসহ আরও নানা ধরনের দাহ্য উপাদান।
এসব সামগ্রী অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে তোলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কোথা থেকে শুরু হয়েছিল আগুন
তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, কার্গো শেডের বর্ধিত অংশের উত্তর-পশ্চিম কোণের কাছাকাছি কয়েকটি কুরিয়ার খাঁচার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণেই আগুন লাগে বলে নিশ্চিত হয়েছে।
তুরস্ক থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, অগ্নি নির্বাপক বিশেষজ্ঞ ও সিআইডি ফরেনসিক ইউনিটের পরীক্ষা–নিরীক্ষায়ও একই কারণ পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, যে পরিবেশে এ ধরনের দাহ্য উপাদান রাখা হয় সেখানে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা, নিয়ম না মানা এবং অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশই আগুনের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
আগাম সতর্কতার ঘাটতির কারণে বড় ধরনের ক্ষতি
ঘটনার পর সর্বত্র প্রশ্ন উঠেছিল—এত বড় সংরক্ষণাগারে ফায়ার সেফটির মৌলিক ব্যবস্থা কেন ছিল না? তদন্ত প্রতিবেদন সেই প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছে—সংশ্লিষ্টদের অবহেলাজনিত দুর্বলতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই এত বড় ক্ষতি হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কার এবং নতুন নির্দেশিকা তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।









