সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি ও লেখক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে তার নাম ঘোষণা করে সুইডিশ অ্যাকাডেমি। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।


সমসাময়িক সাহিত্যে প্রাচীন ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন এবং উদ্ভাবনী ও বৈচিত্র্যময় লেখার মাধ্যমে আধুনিক সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করার স্বীকৃতি হিসেবে অ্যান কারসনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।


১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান কারসন। ১৯৮১ সালে ক্লাসিকস বিষয়ে তার ডক্টরাল থিসিস ‘ওদি এত আমো এরগো সাম’ প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি কবিতা লেখা, অনুবাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যে নানা ধরনের নিরীক্ষা করেছেন।


কারসনের সাহিত্যকর্মে শব্দের প্রতি ভাষাবিদের গভীর মনোযোগ এবং নতুন অর্থ অনুসন্ধানে কবির আকাঙ্ক্ষার অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। তিনি নিজেও বলেছেন, কোনো লেখা তৈরির ক্ষেত্রে শব্দের উৎপত্তি ও উৎস অনুসন্ধান করাই তার কাজের প্রথম ধাপ।


প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা তিনি অনুবাদ করেছেন। এর মধ্যে সাপফোর অসমাপ্ত কবিতার সংকলন ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২), সাপফোর ‘ইলেক্ট্রা’ (২০০১), ‘অ্যান্টিগন’ (২০১৫) এবং ইউরিপিডিসের ‘বাক্খাই’ (২০১৫) উল্লেখযোগ্য।


১৯৯০-এর দশকে কারসন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশ করেন। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ সংকলনের ‘দ্য গ্লাস এসে’ তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। এতে ভিন্নধর্মী লেখনিশৈলীর মাধ্যমে দীর্ঘ কবিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন তিনি।


১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: এ নভেল ইন ভার্স’ তার সবচেয়ে প্রশংসিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি। এতে প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরোসের কবিতার খণ্ডাংশের সঙ্গে আধুনিক ভাষা ও মানবিক অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন তিনি।


ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই লেখার নতুন ধারা ও কাঠামো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন কারসন। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ‘ফ্লোট’ (২০১৬), যা ২২টি ছোট পুস্তিকার সংকলন। পাঠকেরা বইটির বিভিন্ন অংশ নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পড়তে পারেন।


২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’তেও ভিন্নধর্মী টেক্সট ব্যবহারের মাধ্যমে সাহিত্যকে চারুকলা ও একাডেমিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করেছেন তিনি।


অ্যান কারসন অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী, অপেরা পরিচালক ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি সাহিত্যের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের সৃষ্টিশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে তার সাহিত্যকর্ম বিশ্বজুড়ে শিল্প ও সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।


সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ৫০ বছর গোপন রাখে সুইডিশ অ্যাকাডেমি। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে সম্ভাব্য বিজয়ী সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা করা কঠিন।


১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১২২ জন সাহিত্যিক এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন নারী। এছাড়া চারবার যৌথভাবে একাধিক ব্যক্তিকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।


এমকে/বিএম২৪