দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত মার্কিন নৌসেনা, জাহাজে আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত মার্কিন নৌসেনা, জাহাজে আত্মহত্যার চেষ্টা

সূত্রঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক



ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন সমুদ্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নাবিক ও মেরিন সদস্যদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে জাহাজটিতে একাধিক আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাও সামনে এসেছে।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের এই মোতায়েন ইতোমধ্যে নবম মাসে পৌঁছেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ২৫০ দিন কোনো স্থলভাগে না নেমে সমুদ্রে থাকার ঘটনা আধুনিক সময়ে কোনো বিমানবাহী রণতরীর জন্য রেকর্ড। দীর্ঘ এই মোতায়েনের কারণে জাহাজে থাকা সদস্যদের পরিবারের মধ্যেও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।


গত বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক টাউন হল বৈঠকে প্রায় ২০০ সেনা পরিবারের সদস্য অংশ নেন। সেখানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে থাকা স্বজনদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।


এক নৌসেনার স্ত্রী জানান, তার স্বামী সম্প্রতি তাকে একটি বার্তায় নিজের চরম মানসিক বিপর্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন। আরেক নৌসেনার স্ত্রী নেভি টাইমসকে জানান, তার স্বামী একপর্যায়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এক সহকর্মী বিষয়টি দেখে ফেলায় তাকে আটকে নিরাপদে ডেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।


বৈঠকে পরিবারগুলোর এসব অভিযোগ ও উদ্বেগ নৌবাহিনীর নেতৃত্বের কাছে সরাসরি তুলে ধরা হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী হাং কাওসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শুধু মানসিক চাপ নয়, জাহাজটির জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন নৌসেনাদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, জাহাজে ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, নষ্ট টয়লেট, দীর্ঘ সময় কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা বন্ধ থাকা এবং গরম পানির সংকট রয়েছে।


খাবারের মান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি নিয়েও অভিযোগ করেছেন নৌসেনারা। লেভিনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো সময় তাদের খাবার হিসেবে অল্প পরিমাণ ভাত ও টরটিলা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাবান, ডিওডোরেন্ট ও টুথপেস্টের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটের কথাও জানা গেছে।


আফগানিস্তান ও ইরাকে দায়িত্ব পালন করা সাবেক আর্মি রেঞ্জার এবং কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রোও ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর বাড়তে থাকা চাপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘ সময়ের এই মোতায়েন পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও কঠিন করে তুলছে।


দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, যুদ্ধকালীন দায়িত্ব ও প্রতিকূল জীবনযাপনের কারণে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সদস্যদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা এখন নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজের জীবনযাত্রার পরিবেশ উন্নত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, এএফপি



এমকে/বিএম২৪