ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক আর নেই

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২২ পিএম
ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক আর নেই

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভাষাসৈনিক, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য আহমদ রফিক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসকরা গণমাধ্যমকে জানান, মৃত্যুর সাত মিনিট আগে আহমদ রফিকের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। গতকাল বুধবার বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। কিডনির সমস্যা, বারবার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন তিনি। বারডেম হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. কানিজ ফাতেমার তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

জানা গেছে, মৃত্যুর আগে তিনি নিজের মরদেহ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল মেডিকেল কলেজে দান করে গেছেন।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে আহমদ রফিককে পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় গত রবিবার তাকে বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আহমদ রফিক। স্ত্রীকে ২০০৬ সালে হারানোর পর থেকে তিনি একাই রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। ব্যক্তিগত সংগ্রহে বিপুলসংখ্যক বইই ছিল তার একমাত্র সম্পদ।

ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রাবন্ধিক ইতিহাসবিদ হিসেবে তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। দুই বাংলার রবীন্দ্রচর্চায় তার অবদান অনন্য। কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে দিয়েছে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি। এছাড়া একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

২০১৯ সাল থেকে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে শুরু করলে অস্ত্রোপচার করা হলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সাল থেকে তিনি প্রায় দৃষ্টিহীন ছিলেন। এর আগেই, ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যায়।

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনে তার অসামান্য অবদানের জন্য দেশের বুদ্ধিজীবী মহল তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি তার চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে।