অপরাজেয় আত্মবিশ্বাস ও শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
মো: মিজানুর রহমান সুমন, বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
ফুটবলীয় ব্যাকরণ আর যুক্তির দেয়াল ভেঙে কীভাবে অবিশ্বাস্য কোনো মহাকাব্য রচনা করতে হয়, বৃহস্পতিবার রাতে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম যেন তার জীবন্ত সাক্ষী হয়ে রইল। সমীকরণ যখন পরাজয়ের খুব কাছে, তখনই লিওনেল মেসির দল উপহার দিল ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় রূপকথা—ম্যাচের শেষ সাত মিনিটে নাটকীয় দুই গোল করে তারা নিশ্চিত করল ফাইনালের টিকিট।
ম্যাচের ৮৩তম মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ছিল ব্যাকফুটে। এক গোল হজম করার পর থেকে পুরো ম্যাচজুড়েই তারা যেন খেই হারিয়ে ফেলেছিল। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার ভক্তের হৃদস্পন্দন তখন যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। হার যখন প্রায় অনিবার্য, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন স্কালোনি-বাহিনী। আটলান্টার সবুজ গালিচায় শুরু হলো আর্জেন্টিনার সেই চেনা 'টিকি-টাকা' আর দ্রতগতির পাল্টা আক্রমণের যুগলবন্দি।
৮৩তম এবং ৯০তম মিনিটে করা জোড়া গোল যেন মুহূর্তেই পুরো স্টেডিয়ামের আবহ বদলে দিল। গ্যালারির দীর্ঘশ্বাস পরিণত হলো গগনবিদারী উল্লাসে। বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ঘরে ঘরে তখন বিজয়ের উৎসব।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, “পরাজয় সামনে থাকলেও খেলোয়াড়দের চোখে আমি কখনো ভয় দেখিনি। তাদের ওই বিশ্বাসই আমাদের জয়ের পথ দেখিয়েছে। এই দলটি শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করতে জানে।”
এই জয় কেবল মাঠের লড়াইয়ে জয় নয়, এটি আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পিছু না হটার যে অদম্য মানসিকতা, তা আবারও বিশ্বকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
এখন গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের নজর এখন ফাইনাল মহারণের দিকে। মেসি এবং তার সতীর্থরা কি পারবেন এই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে শিরোপা ঘরে তুলতে? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।









