তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও মশাল মিছিল
আহমেদ মুনহা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন ও মশাল মিছিলে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা সমিতির সদস্যরা। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ মাইনুল ইসলাম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী সাইদ বিন হাবিব, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাহী সদস্য সালমান সাকিব, বিভিন্ন জেলা সমিতির সভাপতি এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন উদ্যোগ নয়, এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবিকা, কৃষি ও অর্থনীতির টেকসই ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।” তারা দ্রুত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ভারত যদি বন্ধু হও পানির ন্যায্য হিস্যা দাও, তিস্তা পাড়ের কান্না, আর না আর না, উত্তরের এই বৈষম্য, মানি না মানবো না, জাগো বাহে কোনঠে সবাই, আইসো মিলে তিস্তা বাঁচাই, দাবি মোদের একটাই, তিস্তার পানির হিস্যা চাই, সবার প্রাপ্য সবায় পায়, হামার বেলায় বাজেট নাই, ইত্যাদি প্লেকার্ড দেখা যায়।
মানববন্ধনে চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে জনবল প্রয়োজন, সেই সকল জনবল আমাদের বাংলাদেশ থেকেই নিতে হবে এবং তাদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে করা বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে। ভারত বাংলাদেশের মানবতার শত্রু। ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের শত্রু। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারত যেসকল বাধ দিয়েছে, সেগুলো বাধ ভেঙে পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে আমরা সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি"
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(চাকসু)
নির্বাহী সদস্য সালমান সাকিব বলেন,"আজকে মশাল মিছিলের উদ্দেশ্য হচ্ছে যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের উপর ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভারত বাংলাদেশ যে অন্তর্বর্তী তিস্তা পানি চুক্তি করেছিল তা বরাবরই ভঙ্গ করেছে ভারত। আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে নিজ দেশের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রতিবেশী দেশের বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এসেছে ভারত।তাই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই অন্তর্বর্তী চুক্তিকে স্থায়ী করনের জন্য প্রতিবাদ করেছে।
তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক আচরণের অবসান হবে। উত্তরাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমি সঠিক সময়ে পানি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে চাষাবাদ করা যাবে।
যার ফলে অতিরিক্ত সেচ পাম্প ব্যবহার করতে হবে না। প্রাকৃতিক উপায়ে এই নদী কেন্দ্রিক চাষাবাদ ব্যবস্থা নতুন করে আলো দেখাবে কৃষকদের ফসলের।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল আহমেদ বলেন, আমাদের তিস্তার পাড়ের জনগণের বছরের পর বছর নদী ভেঙে সর্বনাশ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। কারণ তারা ভারতের তাবেদারি করেছে। আমরা এই তাবেদারি আর করতে দেব না। এই ভারত আমাদেরকে সবসময় দমিয়ে রাখতে চেয়েছে। আমরা এসব আর হতে দেব না।
শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ আশিক বাবু বলেন, তিস্তা নদী একসময় ছিলো আমাদের উত্তরবঙ্গের আশির্বাদ কিন্তু এখন ভারতীয় আগ্রাসনে এই নদী আমাদের সর্বনাশা অভিশপ হয়ে গেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখন উত্তরবঙ্গ রক্ষার জন্য সময়ের দাবি। আমরা এই মানববন্ধন ও মশাল মিছিল থেকে সারা বাংলাদেশের সকল জণগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান করছি আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করি এবং তিস্তার পানির হিস্যা বুঝে নেই।
মশাল মিছিলটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট শহীদ মিনার থেকে কাটা পাহাড় রোড হয়ে জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়।









