৯৯৯-এর সক্ষমতা বাড়াতে পূর্বাচলে আরও ১০০ ওয়ার্কস্টেশন, ডেমরায় আসছে বৃহৎ কেন্দ্র
স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বর্তমানে রাজধানীর পূর্বাচলে আরও ১০০টি নতুন ওয়ার্কস্টেশন স্থাপনের কাজ চলছে। পাশাপাশি ডেমরার আমুলিয়ায় প্রায় ৫৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ ওয়ার্কস্টেশন বিশিষ্ট একটি বৃহৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবনাও রয়েছে।
৯৯৯-এর প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম জানিয়েছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জরুরি সেবা ব্যবস্থায় গতি আসবে এবং সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত সহায়তা পাবেন।
তিনি বলেন,
> “বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার কল আসে, যেখানে মাত্র ৮০ জন কল টেকার ও ২০ জন ডিসপ্যাচার দিয়ে এই বিপুলসংখ্যক কল পরিচালনা করা হয়। সীমিত জনবল নিয়ে সবার অনুরোধে সাড়া দেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।”
মহিউল ইসলাম জানান, প্রতিদিন প্রাপ্ত কলের বেশিরভাগই অপ্রাসঙ্গিক বা জরুরি নয়। এতে প্রকৃত বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের সেবা প্রদানে বিলম্ব ঘটে।
> “২৪ হাজার কলে বেশিরভাগই অপ্রাসঙ্গিক। এসব কলের কারণে প্রকৃত জরুরি সেবা প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ সমস্যা দূর করা কঠিন,” — বলেন তিনি।
এজন্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসন জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া ক্যাম্পেইন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
৯৯৯ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৭ সালে চালুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ কোটি ৬০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৩টি কল পেয়েছে জাতীয় জরুরি সেবা। এর মধ্যে ৮৪ শতাংশ কলেই পুলিশি সহায়তা, বাকিগুলোতে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুল্যান্স সেবা প্রদান করা হয়েছে।
৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তার বলেন,
> “আমাদের জনবল এখনো সীমিত। অপ্রয়োজনীয় কলের কারণে অনেক সময় প্রকৃত বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি সহায়তা পেতে বিলম্বিত হন। তবে নতুন ওয়ার্কস্টেশন চালু হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।”
নতুন ওয়ার্কস্টেশনগুলো চালু হলে দেশের জরুরি সেবা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করছে পুলিশ সদর দপ্তর।









