৬৩ আসনে ঝুলে আছে বিএনপির ত্যাগী নেতাদের ভাগ্য

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০২ পিএম
৬৩ আসনে ঝুলে আছে বিএনপির ত্যাগী নেতাদের ভাগ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসন ভাগাভাগি ও প্রার্থী নির্ধারণে জটিল সমীকরণে পড়েছে বিএনপি। ঘোষিত ২৩৭ আসনের বাইরে এখনো ৬৩ আসনে ঝুলে আছে ত্যাগী নেতাদের ভাগ্য। এরই মধ্যে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে চলছে দরকষাকষি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ ৪০টি আসন মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। এর মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের পাশাপাশি তরুণ রাজনৈতিক দল *জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)*কেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছে, সেই দলগুলোর যেসব আসনে আগ্রহ রয়েছে, সেসব আসনে আমরা প্রার্থী দিইনি। তারা নাম ঘোষণা করলে আমরাও চূড়ান্ত করব।”

গত সোমবার বিএনপি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি ৬৩ আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন এবং কতটি আসন মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে—তা নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা।

ঢাকার ৭ ফাঁকা আসনে নজর:

ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি ৭টি আসনে রয়েছে ত্যাগী ও হেভিওয়েট নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

ঢাকা-৭: মীর নেওয়াজ আলী, ইসহাক সরকার ও হামিদুর রহমান হামিদ

ঢাকা-৯: হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আফরোজা আব্বাস, হাবিবুর রশীদ হাবীব

ঢাকা-১০: ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন আহমেদ অসীম ও রবিউল আলম রবি

ঢাকা-১৩: আব্দুস সালাম

ঢাকা-১৭: প্রভাবশালী প্রার্থী এখনো নিশ্চিত নয়

ঢাকা-১৮: এসএম জাহাঙ্গীর

ঢাকা-২০: তমিজ উদ্দিন, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, নাজমুল হাসান অভি, সুলতানা আহমেদ

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকেও ঢাকার যেকোনো একটি আসনে প্রার্থী করা হতে পারে।

এদিকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ইতোমধ্যে ঢাকা-১৩ আসনে প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “জোটের চূড়ান্ত ঘোষণা এলে প্রার্থীর ঘোষণাও একসঙ্গে হবে। মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তাই মাঠে কাজ করছি।”

একইভাবে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থও ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী) আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ঢাকার বাইরে ত্যাগীরা মাঠে:

রাজধানীর বাইরে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝিনাইদহ, বরিশাল, সুনামগঞ্জ ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন আসনে ত্যাগী নেতারা এখনো আশায় রয়েছেন।

গাজীপুর-১: কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল (৬১ মামলার আসামি, গুলিবিদ্ধ, ক্লিন ইমেজের নেতা)

গাজীপুর-৬: বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার

নারায়ণগঞ্জ-৪: সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনসহ অন্তত ৬ জন প্রার্থী

ঝিনাইদহ-৪: সাইফুল ইসলাম ফিরোজ

ঝিনাইদহ-১: অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান (পদত্যাগ করে নির্বাচন করবেন)

বরিশাল-৩: সেলিমা রহমান, জয়নাল আবেদিন, আব্দুস সাত্তার খান

সুনামগঞ্জ-২: নাছির উদ্দিন চৌধুরী এগিয়ে

পটুয়াখালী-৩: হাসান মামুন (সাবেক ছাত্রদল সভাপতি)

স্থানীয় নেতারা বলছেন, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দিলে মাঠে বিএনপি নতুন উদ্দীপনা পাবে।

মিত্রদের জন্য ফাঁকা ১৪ আসন:

বিএনপি মিত্র রাজনৈতিক দলের ১৪ শীর্ষ নেতার আসনে প্রার্থী দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব আসন ছেড়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছেন—

পিরোজপুর-১: জাপা (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার

বগুড়া-২: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না

ঢাকা-১৭: বিএনপি মিত্র বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ

লক্ষ্মীপুর-১: এলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম

কিশোরগঞ্জ-৫: জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা

লক্ষ্মীপুর-৪: জেএসডির তানিয়া রব

ঢাকা-১৩: এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: গণসংহতির প্রধান জোনায়েদ সাকি

চট্টগ্রাম-১৪: এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক

কুমিল্লা-৭: এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ

নড়াইল-২: এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ

পটুয়াখালী-৩: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর

ঝিনাইদহ-২: গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান

ঝালকাঠি-১: লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান

জোনায়েদ সাকি জানিয়েছেন, “আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচন করব। এটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত।”

গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান বলেন, “জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এবার ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন ও মিত্রদের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে। তবে ঢাকার কিছু কৌশলগত আসনে (যেমন ঢাকা-১০, ১৭, ১৮) প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্তই হতে পারে বিএনপির নির্বাচনি কৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দু।