১৯৭৩ সাল থেকেই সব খারাপ কাজ শুরু আওয়ামী লীগের আমলে: আসিফ নজরুল

প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:০১ পিএম
১৯৭৩ সাল থেকেই সব খারাপ কাজ শুরু আওয়ামী লীগের আমলে: আসিফ নজরুল

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশে সব খারাপ ও শয়তানি কাজের সূচনা হয়েছে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের আমল থেকেই—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন,

> “আমার লোক, তোমার লোক—এই সংস্কৃতি ভয়াবহভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের শাসনামলে। বাংলাদেশে যত খারাপ কাজ, শয়তানি কাজ—সবকিছুর শুরু হয়েছে ১৯৭৩ সালের আওয়ামী লীগ আমলে।”

তিনি আরও বলেন,

> “গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু, ভুয়া নির্বাচন, প্রশাসনের দলীয়করণ—এসব প্রথম শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে অন্য দলগুলো শুধু এই সংস্কৃতিকে চালিয়ে গেছে।”

বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকে দলীয় পক্ষপাতিত্বের এই কালচার থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,

> “আমার লোক, তোমার লোক–এই মানসিকতা থেকে বিএনপি, জামায়াতসহ এনসিপি ও অন্যান্য ছোট দলগুলোকেও বের হয়ে আসতে হবে। কারণ, ছোট দলগুলোও এই ব্যাধি থেকে মুক্ত নয়।”

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অমানবিক রূপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,

> “শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশকে একটি নির্মম, অত্যাচারী, পাশবিক ও দানবীয় বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন।”

পুলিশের সংস্কার প্রসঙ্গে অধ্যাপক নজরুল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধিতে সংশোধন এনে বলা হয়েছে, আটকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের জানাতে হবে। একইভাবে গুম সংক্রান্ত আইনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য না জানানো হলে সেটিকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে।

তিনি আরও বলেন,

> “পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে সাংস্কৃতিক সমস্যাগুলো আছে, সেগুলোও পরিবর্তন করতে হবে। গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য আলাদা লোক রাখা হয়—এমন সংস্কৃতি বন্ধ করা প্রয়োজন। পুলিশকে নাগরিকবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনীতে রূপান্তর করতে হবে।”

বক্তৃতার শেষাংশে অধ্যাপক নজরুল জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের স্বার্থে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করা বন্ধ না করে, তাহলে সংস্কারের কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।