খালকাটা কর্মসূচি থেকে সবুজ বিপ্লব—শহীদ জিয়ার উন্নয়ন দর্শন আজও দেশের জন্য প্রেরণা: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী
সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব এবং কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা আজও বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি বলেন, দেশের কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও উৎপাদনমুখী উন্নয়নের যে ভিত্তি জিয়াউর রহমান তৈরি করেছিলেন, তার সুফল এখনও দেশের মানুষ ভোগ করছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে চারটায় জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষির উন্নয়ন হলেই দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষক যেন তার ঘাম ও শ্রমের সঠিক মূল্য পায়, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খুব বেশি সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাননি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেশের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর খালকাটা কর্মসূচি দেশের সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি কৃষিকে উৎপাদনমুখী খাতে রূপান্তরের যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন,তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদান জাতি কখনও ভুলবে না। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তিনি কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই দেননি, বরং দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির পথও দেখিয়েছিলেন। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, পরিবার পরিকল্পনা, নারী উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনন্য।”
তিনি বলেন, সততা, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের মূল শক্তি। তিনি জাতীয় ঐক্য, আত্মনির্ভরশীলতা ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজও বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার জন্য প্রাসঙ্গিক।
আব্দুল বারী আরও বলেন, যখন তিনি দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ শুরু করেছিলেন, তখন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে গোটা জাতি গভীর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিল। কিন্তু তাঁর আদর্শ, কর্মদর্শন এবং উন্নয়নের চিন্তা আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ শুধু স্মরণ করার জন্য নয়, বাস্তব জীবনে ধারণ করার জন্য। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, কৃষকের অধিকার রক্ষা এবং জনগণের কল্যাণে সবাইকে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে কাজ করতে হবে। কৃষি, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মণ্ডল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী দুর্যোগময় সময়ে জিয়াউর রহমান জাতিকে নতুন আশা ও আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন।তিনি জনগণের ক্ষমতায়ন,বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও অনুষ্ঠান সঞ্চালক মওদুদ আলম বলেন, আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
কালাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার সোহেল বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির পথিকৃৎ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে তাঁর গৃহীত কর্মসূচিগুলো আজও স্মরণীয়।
পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিম বলেন, দেশের কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জিয়ার অবদান ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর কর্মময় জীবন তুলে ধরতে হবে।
আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে দেশ, জাতি, গণতন্ত্র, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণ কামনা করা হয়।








