শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে উপাচার্যের বাণী
৩০ মে-একটি বেদনার দিন, একটি স্মৃতিময় দিন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু নাম শুধু একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, একটি অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তেমনই এক নাম, যার জীবন, সংগ্রাম ও শাহাদাৎ বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
আজ মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বীর উত্তম, সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ও বাংলাদেশের জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে আমি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, রাষ্ট্রগঠন এবং জাতীয় উন্নয়নের ইতিহাসে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত নাম। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসী ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব জাতির ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও অবাধ মতপ্রকাশ এবং জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর কর্মমুখী নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। শহিদ জিয়াউর রহমান-এর জীবন আমাদের দেশপ্রেম, কর্তব্যনিষ্ঠা, আত্মত্যাগ এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রেরণা জোগায়। জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান নিয়ে ইতিহাসবিদ, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আলোচনা ও মূল্যায়ন অব্যাহত রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়কে বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়ন এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। সেই দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দিন নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকের দিন। একজন রাষ্ট্রপতির মৃত্যু হয়েছিল, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, তাঁর আদর্শ এবং তাঁকে ঘিরে মানুষের আবেগ আজও বেঁচে আছে কোটি মানুষের হৃদয়ে।
আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানাই আমরা যেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জুলাই বিপ্লবের চেতনা, দেশপ্রেম, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে জ্ঞানভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখি।
এই দিনে আমি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই বিপ্লব এবং দেশের কল্যাণে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।








