সংবিধান নতুনভাবে প্রণয়নে কোনো বাধা নেই: সারোয়ার তুষার

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৪৫ পিএম
সংবিধান নতুনভাবে প্রণয়নে কোনো বাধা নেই: সারোয়ার তুষার

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন হলেও সেটি অপরিবর্তনীয় নয়। প্রয়োজনে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা সম্ভব এবং এতে কোনো সাংবিধানিক সংকট বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে না।

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে যতগুলো সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন আদালত— পঞ্চম, অষ্টম, পঞ্চদশ— সবগুলোর ক্ষেত্রেই যুক্তি ছিল যে, এগুলো সংবিধানের ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ বা মৌলিক কাঠামোকে লঙ্ঘন করেছে। আদালতের কাজ হচ্ছে সংবিধানকে সমুন্নত রাখা, তাকে প্রটেক্ট করা।”

সারোয়ার তুষার বলেন, “আমরা যদি এখন সিদ্ধান্ত নিই যে এই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার মধ্যে থাকব না, বরং একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করব— তাতে কোনো সমস্যা নেই। অনেকে বলেন, ৭২-এর সংবিধান পোস্টপোন করলে দেশে নাকি অরাজকতা হবে। এসব শুনে অবাক লাগে। আমরা আইনজীবী নই, তবু বুঝি— তাহলে ওনারা বোঝেন না কেন?”

তিনি আরও বলেন, “ল কন্টিনিয়েন্স এনফোর্সমেন্ট অর্ডার নামে একটি ধারণা আছে। আমরা যদি আজ সংবিধান বাতিলও করি, এই অর্ডারের মাধ্যমে বলা যায়— নতুন সংবিধান না আসা পর্যন্ত বিদ্যমান আইনগুলো কার্যকর থাকবে। তবে যে আইনগুলো নতুন আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো প্রাধান্য পাবে না। এটি একেবারেই সহজ প্রক্রিয়া, এতে কোনো সাংবিধানিক সমস্যা নেই।”

তুষার বলেন, “যদি ১৯৭২ সালের সংবিধানের বেসিক স্ট্রাকচার মানতে হয়, তাহলে সংসদ সেই কাঠামো পরিবর্তন করতে পারবে না। অথচ হাইকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে অষ্টম সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সংসদ নতুন করে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তাই বেসিক স্ট্রাকচার পরিবর্তন করাই এখন জরুরি।”

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, “দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় এখন সময় এসেছে জনগণের অংশগ্রহণে একটি আধুনিক, সময়োপযোগী সংবিধান প্রণয়নের। যাতে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়।”