শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিচার না হলে জুলাই শহীদদের প্রতি অবিচার হবে

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৪৪ পিএম
শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিচার না হলে জুলাই শহীদদের প্রতি অবিচার হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচার না হলে শহীদ ও আহতদের ওপর ভয়াবহ অবিচার করা হবে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ভীরু-কাপুরুষ হয়ে রয়ে যাবে....

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ মামলার সর্বশেষ দিনের যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন,

> “আমি বিশ্বাস করেছিলাম, শেখ হাসিনা ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন। কারণ তিনি অন্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন—‘সাহস থাকলে বিচারের মুখোমুখি হন’। কিন্তু আজ তিনি নিজে সেই সাহস দেখাতে পারেননি। যদি সত্যিই মন থেকে সেই কথা বলতেন, তাহলে আজ দেশের মাটিতে ফিরে এসে বিচারের মুখোমুখি হতেন।”

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন,

> “এই আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে বাংলাদেশের আরও অগণিত মানুষের জীবন বিপন্ন হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে রাষ্ট্র হিসেবে আমরা ব্যর্থ হবো। আমি আদালতের কাছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।”

তার বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণ দেয়—ন্যায়বিচার যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করা হবে। আদালত বলেন,

> “দুই পক্ষই ন্যায়বিচার পাবে। আমরা আইন ও প্রমাণ অনুযায়ী রায় দেবো।”

মামলার প্রেক্ষাপট ও সাক্ষ্যগ্রহণ

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার, আহত, চিকিৎসকসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে—জুলাই গণহত্যা, গুম-খুন, নির্যাতন ও নৃশংসতার নানা বর্ণনা।

প্রসিকিউশন বলছে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পৃথিবীর যেকোনো আদালতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।

রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হন জুলাই-আগস্টের গণহত্যাকালীন সময়ের তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বিস্তারিত বর্ণনা দেন গণহত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের ভূমিকা নিয়ে। তার সাক্ষ্যে উঠে আসে, এই নৃশংসতার পেছনে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নির্দেশনা ছিল।

প্রসিকিউশনের দাবি ও ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী পদক্ষেপ

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি—সাক্ষ্য ও প্রমাণ যথেষ্ট, তাই আদালত যেন দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার ব্যবস্থা নেয়। যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য দিন ধার্য করবে বলে জানিয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার বিচার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।