ভোলা-১ আসনে গরুর গাড়ি প্রতীকে নির্বাচন করবেন আন্দালিব রহমান পার্থ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পৃথক দল গঠনের ২৪ বছর পর এই প্রথম দলীয় প্রতীক গরুর গাড়ি নিয়ে ভোলা-১ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোলা জেলা সদরে দলীয় নেতাকর্মীদের শোডাউন ও সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এর আগে ২০০৮ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন পার্থ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে এবার বিএনপি জোটের ওপর নির্ভর না করে নিজ দলের প্রতীক গরুর গাড়ি নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
২০০১ সালের ৫ আগস্ট, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে পৃথক হয়ে নতুন দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) গঠন করেন তৎকালীন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জু। দলের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ছেলে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।
দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে না যাওয়ার কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও দলের প্রতীক সম্পর্কে আগ্রহ কমে যায়। এ প্রেক্ষিতে পার্থ এবার নিজস্ব প্রতীক ও অবস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করতে মাঠে নেমেছেন।
ভোলা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ বলেন,
> “আমাদের দলের প্রতীক রয়েছে। বিএনপির মনোনয়নের অপেক্ষায় না থেকে এবার নিজেদের প্রতীকেই চেয়ারম্যান নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যারিস্টার পার্থ। এতে তৃণমূল কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন।”
ভোলার নতুন বাজারে আয়োজিত সমাবেশে জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম বলেন,
> “ব্যারিস্টার পার্থর বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুকে যেমন ভোলার মানুষ ভালোবাসতেন, তেমনি তাকেও ভালোবাসেন। তাই আমরা বিশ্বাস করি—ভোলার মানুষ এবার গরুর গাড়ি প্রতীকে ভোট দেবেন।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা বিজেপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. নুরন্নবী, জেলা যুব সংহতির সভাপতি নূরে আলম টিটু, এবং শ্রমিক পার্টির সভাপতি জামাল উদ্দিন সকেট।
সকালে থেকেই ভোলার নতুন বাজার দলীয় কার্যালয় চত্বরে নেতাকর্মীরা জড়ো হন এবং পরে শহরে বর্ণাঢ্য মিছিল ও শোডাউন করেন।
এর আগে গত শনিবার (১ নভেম্বর) ভোলা-১ আসনে বিএনপি ও বিজেপির পৃথক শোডাউনকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন এবং বিজেপি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।
সংঘাতের পর কেন্দ্রীয় বিএনপি উপজেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে এবং দুদিন পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীরকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত হলেও হতাশ হন বিজেপি কর্মীরা।
অবশেষে তৃণমূলকে চাঙা রাখতে ও দলের অস্তিত্ব পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই নিজ দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন আন্দালিভ রহমান পার্থ।
এদিকে ভোলা-১ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন —
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী: অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম (জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির)
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী: মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা
ভোলা-১ আসনে তিন দলের এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে।









