বন্ধ ক্যাম্পাসেই চলছে নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা
আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসের চলমান দূর্গা পূজার বন্ধেও থেমে নেই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। পূজার ছুটিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও আবাসিক হলগুলোতে, ক্যাফেটেরিয়া ও বিভিন্ন মিলনস্থলে প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় চালাচ্ছেন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও, প্রার্থীরা নানা উপায়ে নিজেদের পরিচিতি ও প্রতিশ্রুতি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের ভাবনা ও প্রতিশ্রুতিগুলো শিক্ষার্থীদের জানাচ্ছেন। এছাড়াও বৈঠক, কটেজগুলোতে গিয়ে দেখাসাক্ষাৎ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমেও প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দূর্গা পূজার ছুটিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় প্রচারণার গতি কিছুটা ভিন্ন হলেও উৎসাহ-উদ্দীপনায় কোনো ঘাটতি নেই। বরং প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রচার প্রচারণা।
প্রার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় প্রচারণার ধরন কিছুটা বদলাতে হয়েছে। সরাসরি প্রচারণার পাশাপাশি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা নিজেদের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে ফেসবুক পোস্ট, স্টোরি, ভিডিও মেসেজ এবং অনলাইন প্রচারণায় মনোযোগী হয়েছেন।
বাংলা বিভাগের২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ সৌরভ হাসান বলেন, " চাকসু উপলক্ষে উৎসবের মতো লাগছে। ফেসবুকে ঢুকলেই প্রার্থীদের প্রচারণামূলক পোস্ট পাচ্ছি।"
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের এজিএস প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, "প্রচারণা শুরুর দিনেই ক্যাম্পাস বন্ধ, যে কারণে আমরা সবার কাছে পৌঁছাতে পারছি না।
আমরা চেষ্টা করবো সামাজিক মাধ্যমে পৌঁছানোর, তবে আমি মনে করি ভোটাররা যোগ্য মানুষদের চিনে নিবে। বিশেষ করে শহরের এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও বাসা ধরে ধরে আমরা এগুচ্ছি।"
চাকসুর স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, "চাকসু নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের আসলে যে উৎসবমুখর একটি পরিবেশ থাকার কথা ছিল তা আসলে হচ্ছে না। পূজার ছুটির জন্য সেটা প্রায় অনেকটাই কমে গিয়েছে এবং প্রচার প্রচারণা করা যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচার-প্রচারণা হচ্ছে সেই তো শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আবেদন থাকবে তারা যেন বিভিন্ন বিভ্রান্তকর তথ্য থেকে নিজেদের বিরত রাখে। আমরা আশা করছি পূজোর ছুটির পর ক্যাম্পাস আবার উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করবে।"
ছাত্রশিবির সমর্থিত 'সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট' প্যানেলের সদস্য প্রার্থী সালমান ফারসি বলেন, " শিক্ষার্থীরা অনেকেই ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছেন। আমর বিভিন্ন হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কথাগুলো শুনতেছি,তাদের সমস্যাগুলোই হবে আমাদের ইশতেহার।"
'সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ' প্যানেলের নির্বাহী সদস্য প্রার্থী মো. মোজাহিদুল্লাহ বলেন, "আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রচারণায় কিছুটা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। এরপরও আমরা থেমে নেই। হলে হলে গিয়ে প্রচারণা করেছি, শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে গেছি। যেহেতু অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা চলছে, তাই তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা তাদের কাছে গিয়ে সরাসরি আমাদের বক্তব্য তুলে ধরছি। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারলেই আমাদের প্রতি তাদের আস্থা ও সমর্থন আরও বাড়বে।"









