দারিদ্র্য জয় করে বিশ্ব মঞ্চে মারুফা: কান্নাভেজা চোখে বললেন জীবনের গল্প
স্পোর্টস ডেস্ক:
চলমান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার মারুফা আক্তার। তার গতিময় বোলিং ও নিখুঁত সুইংয়ে বিপক্ষ ব্যাটাররা দিশেহারা। শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি লাসিথ মালিঙ্গা থেকে শুরু করে সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার নাসের হোসেন—সবাই প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন এই টাইগ্রেস পেসারকে।
কিন্তু এই উজ্জ্বল সাফল্যের পেছনের পথটা মোটেও সহজ ছিল না মারুফার জন্য। কখনো বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে ঘাম ঝরিয়েছেন, কখনো সহ্য করেছেন দারিদ্র্য আর সমাজের কটূ মন্তব্য। ছোট শহরের এক মেয়ের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে যত বাধাই আসুক, তিনি থামেননি একদিনও।
সম্প্রতি আইসিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি মারুফা। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন—
> “কোথাও যদি বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠান হয়, আমাদের দাওয়াত দিত না। বলতো, ওদের ড্রেস নাই, ওইখানে গেলে আমাদের মান-সম্মান থাকবে না। এরকম বলতো অনেকে। একটা সময় ছিল, যখন আমরা ঈদেও নতুন জামা কিনতে পারিনি।”
তিনি আরও বলেন,
> “আমার বাবা একজন কৃষক। আমাদের তেমন পয়সাকড়ি ছিল না। আব্বা যখন বাসায় থাকতেন না, বাজারে যেতেন তখন মাকে অনেকে খারাপ খারাপ কথা বলতো। মা রুমে গিয়ে কান্না করতো, আমি এক কোণায় গিয়ে কাঁদতাম—ভাবতাম আমার জন্য এত কিছু হচ্ছে।”
তবে হাল ছাড়েননি মারুফা। বরং সেই কষ্টই হয়ে উঠেছে তাঁর প্রেরণা।
> “আমি ভাবতাম ঠিক আছে, আমি একদিন ভালো কিছু করে দেখাব। এখন আমরা যেরকম অবস্থাতে এসেছি, অন্যরা এখন সেরকম জায়গায় নেই। আমি যেভাবে ফ্যামিলিকে সাপোর্ট করছি, অনেক ছেলেরাও হয়তো সেভাবে পারছে না। এটা অন্যরকম একটা শান্তি দেয়,” বলেন তিনি।
হাসতে হাসতে যোগ করেন,
> “ছোটবেলায় ভাবতাম, মানুষ কবে আমাদের এভাবে দেখবে, হাততালি দিবে। এখন টিভিতে নিজেকে দেখলে লজ্জা লাগে (হাসি)।”
দারিদ্র্য, অবহেলা আর কষ্টের পাহাড় পেরিয়ে আজ বাংলাদেশ নারী দলের পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র হয়ে উঠেছেন এই তরুণী। মারুফার গল্প শুধু ক্রিকেট নয়, এটি এক অনুপ্রেরণার প্রতীক—যা দেখিয়ে দেয়, স্বপ্নের শক্তি সব প্রতিকূলতাকেও হার মানাতে পারে।









