তারেক রহমানের দেশে ফেরার বার্তা, ভোটের মাঠে একক দৌড়ে জামায়াত
স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নড়াচড়া শুরু হয়েছে জোরেশোরে। নির্বাচনের বাকি চার মাসেরও কম সময়, ডিসেম্বরেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এ সময় বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তিনি শিগগিরই দেশে ফিরে ভোটের সময় জনগণের পাশে থাকবেন।
দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারেক রহমান:
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষের দিকে তারেক রহমান ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যেতে পারেন। সেখান থেকে নভেম্বরে দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে ফিরেই তিনি নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হবেন। এবার আর লন্ডন থেকে প্রার্থী ঘোষণা নয়, প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে দেশ থেকেই।
দলীয় সূত্র বলছে, দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি বিভাগীয় সফর করবেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ঢেউ তুলবেন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলায় খালেদা জিয়াও ভোট প্রচারে নামতে পারেন। এজন্য মা-ছেলের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়িসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াত একাই মাঠে, তিনশ’ আসনে প্রার্থী:
এদিকে বিএনপি যখন প্রার্থী বাছাই ও জোট সমন্বয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির মাঠে একক শক্তি হিসেবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দলটি ইতোমধ্যে তিনশ’ আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
প্রার্থীরা জনসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও বাড়ি বাড়ি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন...
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন,
> “আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমরা আসনভিত্তিক প্রার্থী ঘোষণা করেছি। আমাদের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে প্রচারে নেমেছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ আগস্টের পর থেকেই জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। ইসলামী ছাত্রশিবির, মহিলা জামায়াত, ছাত্রী সংস্থা ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোও এখন মাঠে সক্রিয়।
বিএনপির অভ্যন্তরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে দ্বিধা:
বিএনপির ভেতরে এখন প্রার্থী বাছাই নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা। প্রতিটি আসনে ৫ থেকে ১০ জন পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সিনিয়র নেতাদের অসন্তোষ তৈরি হতে পারে, আবার অভিজ্ঞ নেতাদের বঞ্চিত করলে ত্যাগী কর্মীদের ক্ষোভ বাড়বে — এমন আশঙ্কাও দলীয় পর্যায়ে রয়েছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
> “খুব শীঘ্রই প্রতিটি আসনে একক প্রার্থীকে আমরা গ্রিন সিগন্যাল দেব। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রার্থী যাচাই-বাছাই চলছে।”
জোট রাজনীতি ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন:
নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে থাকা জোট ও মিত্র দলগুলো শতাধিক আসন দাবি করছে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়েছে ১৫টি আসন।
গণফোরাম চাইছে ঢাকা-৬সহ ১৫টি আসন।
গণতন্ত্র মঞ্চ চাইছে অর্ধশতাধিক আসন।
১২ দলীয় জোট চাইছে অন্তত ২০টি আসন।
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট দাবি করেছে ৯টি আসন।
তবে বিএনপি এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। দলীয় সূত্র বলছে, এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার পর।
রাজনৈতিক মাঠে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মনে করেন,
> “আগামী নির্বাচনে প্রতিযোগিতা খুবই তীব্র হবে। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপিকেও এখন জামায়াতের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হবে। যে দল জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে, তারাই ভালো করবে।”
তিনি আরও বলেন,
> “প্রতিযোগিতা থাকুক ভোটের মাঠে, কিন্তু প্রতিহিংসা যেন না থাকে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সবার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”
দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে বিএনপি এখন একদিকে দল পুনর্গঠন, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতির কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে। মাঠে জামায়াতের সক্রিয়তা এবং তরুণ ভোটারদের আকর্ষণ ফেরানো—এই দুই ইস্যু এখন দলের সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ।
তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা আশাবাদী—তারেক রহমান দেশে ফিরলেই সব শঙ্কা কেটে যাবে, মাঠে ফিরবে নতুন প্রাণশক্তি।









