ঢাকা স্ট্রিমের ডিজাইনার স্বর্ণময়ীর মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে ২৪৩ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৫৯ পিএম
ঢাকা স্ট্রিমের ডিজাইনার স্বর্ণময়ীর মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে ২৪৩ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

ডেস্ক রিপোর্ট:

অনলাইন নিউজপোর্টাল ঢাকা স্ট্রিম-এর গ্রাফিক ডিজাইনার স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের (২৮) আত্মহত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করাসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন দেশের ২৪৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা ও কবি ও সাংবাদিক গিরীশ গৈরিক।

বিবৃতিতে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে—

১. যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত যৌননিপীড়ক আলতাফ শাহনেওয়াজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবিলম্বে আইনের মুখোমুখি করতে হবে।

২. ঢাকা স্ট্রিম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও অবহেলা তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

৩. কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্ভাবনাময় তরুণ গ্রাফিক ডিজাইনার স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের অকাল, অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত, ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা স্ট্রিমের বাংলা কনটেন্ট এডিটর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, অশোভন আচরণ ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন স্বর্ণময়ী বিশ্বাসসহ ২৬ জন সহকর্মী।

অভিযোগে আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে ৯ জন নারী সাংবাদিক সরাসরি হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান।

তবে অভিযোগ সত্ত্বেও প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বরখাস্তের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা করেনি; বরং তাকে দায়িত্বে বহাল রাখে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা মনে করি, এ ঘটনায় ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক-প্রকাশক এবং মানবসম্পদ বিভাগ প্রধান নৈতিক ও প্রশাসনিক দায় এড়াতে পারেন না।”

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও অভিযোগ তদন্তের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঢাকা স্ট্রিমে এ নির্দেশনা মানা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়, যা আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, অভিযোগের পর বিচার না পেয়ে স্বর্ণময়ী বিশ্বাস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,

> “এ ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি বাংলাদেশের নারীকর্মীদের কর্মপরিবেশের ভয়াবহ বাস্তবতাকে প্রকাশ করে। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার বিচার হচ্ছে না। ফলে অনেক নারী নীরবে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন, কেউ চাকরি ছাড়ছেন, কেউ আবার অপমান সইতে না পেরে আত্মহননের পথ নিচ্ছেন।”

বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন,

> “স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের মৃত্যু দেশের সাংবাদিক সমাজ, সৃজনশীল মানুষ ও নাগরিক বিবেকের জন্য এক কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে। আমরা চাই, তার মৃত্যু যেন আরেকটি ‘সংবাদ’ হয়ে হারিয়ে না যায়; বরং এটি হোক পরিবর্তনের সূচনা, ন্যায়বিচারের জাগরণ।”