জামায়াতের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার: জাতীয় রাজনীতিতে পুনর্জাগরণের পথে দলটি

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৫৭ পিএম
জামায়াতের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার: জাতীয় রাজনীতিতে পুনর্জাগরণের পথে দলটি

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী সরকারের দমননীতি ও দমনপীড়নের কারণে দীর্ঘ ১৫ বছর বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকার পর নতুন করে পুনর্জাগরণের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় নেতারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের পতনের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই বিপ্লব’ শুধু রাজনৈতিক মুক্তিই এনে দেয়নি, বরং জামায়াতের কার্যক্রমকে নতুনভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনরায় পেলে সরকার গঠনের মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় কূটনীতি

জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকায় নিয়োজিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে একের পর এক মতবিনিময় করছে জামায়াত। তারা কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন দলীয় কার্যালয়ে, অংশ নিচ্ছেন দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আয়োজনে এবং বিদেশ সফর করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি-কৌশল ও অতীতে আওয়ামী আমলে দলটির ওপর চালানো নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। এছাড়া সেপ্টেম্বর থেকে একের পর এক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কূটনীতিকদের আগমন

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী সরকারের পতনের দিন থেকেই জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও সারাদেশের কার্যালয়গুলো খোলা হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংস্কার শেষে সেপ্টেম্বর মাসে এটি নতুনভাবে চালু হয়। এরপরই বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন। এরপর থেকে একের পর এক কূটনীতিক জামায়াত কার্যালয়ে আসতে থাকেন।

৪০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে বৈঠক

এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, কানাডা, ফ্রান্স, তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিলসহ ৪০টিরও বেশি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার জামায়াত আমিরের সঙ্গে তার বসুন্ধরা কার্যালয়ে আলাদা বৈঠক করেন ব্রাজিল ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৪ দেশের কূটনীতিক বা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন দলীয় নেতারা।

তবে এখন পর্যন্ত ভারতীয় দূতাবাস বা দেশটির কোনো প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সামনে আরও সফরের প্রস্তুতি

চলতি মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বৈঠকের শিডিউল রয়েছে জামায়াতের। এছাড়া মাসের শেষদিকে আমেরিকা, কানাডা ও বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয়

দলের এক নেতা জানান, কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের নীতি-কৌশল, রাজনৈতিক অবস্থান, দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এসব বৈঠকে নারী নেতৃবৃন্দকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

‘সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক’

আন্তর্জাতিক যোগাযোগ-সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রধান ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন,

> “আমরা সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই। আমরা সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে চলতে চাই।”

দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, এক যুগের বেশি সময় চরম বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যে থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বর্তমানে জামায়াত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। এর মধ্য দিয়েই তারা জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তৃত করতে চাইছে।