চোখে গুলি নিয়েও চাকসু নির্বাচনে লড়ছেন শুভ
আহমেদ মুনহা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এ পুলিশের গুলিতে একটি চোখ হারিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শুভ হোসেন। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে দমাতে পারেনি। বরং সেই চোখে গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই এবার তিনি লড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে।
লক্ষ্মীপুর জেলার এই তরুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সমাজসেবা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে। এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন আরও ১৯ জন।
শুভ মনে করেন, চাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। তাঁর ভাষায়, “৫ আগস্টের আগে-পরে কখনো পিছপা হইনি, কখনো হবোও না। এবারও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আমি এককভাবে মাঠে আছি।”
সমাজসেবা ও পরিবেশ বিষয়ক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পেছনে তাঁর বিশেষ লক্ষ্য রয়েছে। তিনি জানান, “আমার একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন আছে ‘দৃষ্টিদান ফাউন্ডেশন’। ৬৪ জেলাজুড়ে শিক্ষা, মানবাধিকার ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করছে এটি। সেই অভিজ্ঞতাই আমাকে এই পদে লড়তে অনুপ্রাণিত করেছে।”
শুভ আরও বলেন, “আমাকে নির্বাচিত করলেও আমি কাজ করবো, নির্বাচিত না করলেও কাজ চালিয়ে যাবো। দায়িত্ববোধ থেকেই আমার এই পথচলা।”
২০২৪ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শুভর ডান চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই দফা অস্ত্রোপচারেও চোখটি আর রক্ষা করা যায়নি। এখনও তাঁর চোখের ভেতরে গুলি রয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ঢাকার সিএমএইচ ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছিল শুভর। কিন্তু চোখ হারিয়ে সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। এখন তিনি শিক্ষক হয়ে ভবিষ্যতের প্রজন্মকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে চান। তাঁর কথায়, “আমি আমার একচোখের অন্ধত্ব মেনে নিয়েছি। তবে দায়িত্ব কমেনি, বরং বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্যই চাকসুতে এসেছি।”









