চবি চাকসু নির্বাচনে জয়ী-পরাজিত প্রার্থীদের মিলনমেলা: ঐক্যের সেতুবন্ধন

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৫৮ পিএম
চবি চাকসু নির্বাচনে জয়ী-পরাজিত প্রার্থীদের মিলনমেলা: ঐক্যের সেতুবন্ধন

আহমেদ মুনহা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের অংশগ্রহণে এক অনন্য মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন (চাকসু) নির্বাচনে

সহ- সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা  সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী উলফাতুর রহমান রাকিব, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. মাইনুল ইসলাম, অতীশ দীপঙ্কর হল সংসদের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী আহমেদ মুনহা, 

হল সংসদের সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পদের প্রতিদ্বন্দ্বী  মোছাঃ শায়লা আক্তার নিপা সহ অন্যান্য প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(চাকসু) নবনির্বাচিত জিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ও অন্যান্য নির্বাচিত প্রার্থীরাও। 

মিলনমেলায় জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, ছাত্রকল্যাণ ও ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সহ সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিষয়ক  সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উলফাতুর রহমান রাকিব বলেন,

> “চাকসু নির্বাচন শুধু জয়-পরাজয়ের প্রতিযোগিতা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের এক উৎসব। আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সবার। তাই আগামী দিনগুলোতে আমরা একসাথে কাজ করে ক্যাম্পাসকে আরও প্রাণবন্ত ও সংস্কৃতিমুখী করে তুলব।”

ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পদে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী মো. মাইনুল ইসলাম বলেন,

> “নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিলো স্বাস্থ্যকর, আর এই মিলনমেলা তার প্রমাণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা সবাই মিলে এমন কার্যক্রম হাতে নিতে চাই যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হবে—যেমন ক্যারিয়ার ফেয়ার, সেমিনার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন উদ্যোগ ইত্যাদি।

হল সংসদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক প্রতিদ্বন্দ্বী  মোছাঃ শায়লা আক্তার নিপা বলেন,

> “এই মিলনমেলা আমাদের ঐক্যের প্রতীক। নির্বাচনে কে জিতল বা হারল—সেটি মুখ্য নয়, বরং আমরা সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সামাজিক মূল্যবোধকে আরও উজ্জ্বল করতে চাই।”

মিলনমেলায় নবনির্বাচিত সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) তৌফিকুর রহমান বলেন,

"সুন্দর আবৃত্তি,নৃত্য, নাটিকা উপভোগ করেছি।

যারা আয়োজন করেছেন ও উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রতি অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

আপনারা একটি লক্ষ্য নিয়ে চাকসুতে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন, বিপুল শিক্ষার্থীর সমর্থনও পেয়েছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনারা আপনাদের কাজ জারি রাখবেন। আপনাদের যে কোনো প্রয়োজনে ডাকবেন নিজেন সবটুকু দিয়ে আপনাদের সাথে নিয়ে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ্।"

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্ব, যেখানে নাট্যকলা  বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের অসাধারণ সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেছেন।  বিভিন্ন অনুষদ ও হলের শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করেন। পরিবেশনা শেষে সবাই একসাথে "ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা"র শপথ নেন।

এই মিলনমেলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে এক নতুন ধারা সূচনা করেছে—যেখানে প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতাই হবে নেতৃত্বের মূল শক্তি।