চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন বাবলা

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৮ পিএম
চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন বাবলা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন কথিত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩)। বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরের বায়েজিদ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, “গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সরোয়ারকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে গুলিবর্ষণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে নগরের বায়েজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম–৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন সরোয়ার। গণসংযোগ চলাকালে দুর্বৃত্তরা গুলি চালালে এরশাদ উল্লাহ, সরোয়ার হোসেন বাবলা ও শান্ত নামের তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে সরোয়ারের মৃত্যু হয়।

তবে বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, নিহত সরোয়ার দলের কেউ নন। তারা বলছেন, গণসংযোগে শত শত মানুষ অংশ নিয়েছিল, সরোয়ার সেখানকার কেউ হতে পারেন, তবে বিএনপির সঙ্গে তার কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রার্থী গণসংযোগে গেলে সেখানে সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। সরোয়ার সেখানেও থাকতে পারেন। শুনেছি, সন্ত্রাসী দুটি গ্রুপের পুরোনো বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।”

১৫ মামলার আসামি ছিলেন সরোয়ার

পুলিশ সূত্র জানায়, সরোয়ার হোসেন বাবলার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যা–সহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন।

ওসি জাহেদুল কবির বলেন, “সরোয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে এলাকায় প্রভাব বিস্তারে জড়িত ছিল।”

আগেও হয়েছিল হত্যাচেষ্টা

এর আগে গত ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় প্রাইভেট কারে গুলি চালিয়ে সরোয়ারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই ঘটনায় গাড়িতে থাকা দুইজন নিহত হলেও সরোয়ার ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।

পরে সেই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের নির্দেশে সরোয়ারকে টার্গেট করা হয়েছিল। ছোট সাজ্জাদ বিদেশে পলাতক শিবির ক্যাডার বড় সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। একসময় সরোয়ারও বড় সাজ্জাদের অনুসারী ছিলেন, তবে ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি দলত্যাগ করে নিজস্ব গ্রুপ গঠন করেন।

এলাকায় উত্তেজনা

ঘটনার পর বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় টহল জোরদার করেছে।