চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ কার্যালয় দখলের অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২৭ পিএম
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ কার্যালয় দখলের অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক দোস্ত বিল্ডিংয়ে অবস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নিউমার্কেট এলাকার ভবনটির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে এনসিপির শতাধিক কর্মী আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ক্ষতিগ্রস্ত করেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা ম্যুরাল ভাঙচুর করছেন একদল তরুণ। সেখানে এনসিপির চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিনসহ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপি নেতার ব্যাখ্যা

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, “ভবনটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি। রাতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানো হয়—এমন খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। নিরাপত্তা প্রহরীর কাছ থেকে জেনে নিই, রাতে কেউ আসে না। এরপর তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি কিছু সন্দেহজনক প্রমাণ আছে। তাই ভবনটি তালাবদ্ধ করে দিয়েছি। আগামী দুই দিন ভবনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।”

আওয়ামী লীগের দাবি

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সহকারী আবদুল মালেক বলেন, “৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে এই কার্যালয় বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এনসিপির শতাধিক কর্মী এসে কার্যালয় দখল করে। বঙ্গবন্ধুর ছবি, চেয়ার-টেবিলসহ অনেক আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে।”

পুলিশের বক্তব্য

চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, “এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

দোস্ত বিল্ডিংয়ের রাজনৈতিক ঐতিহ্য

নগরের নিউমার্কেট এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী দোস্ত বিল্ডিং দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ ভবনে বিএনপি, বাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ও রয়েছে। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে এই ভবনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে এক দফা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ভবনটি তালাবদ্ধ ছিল।