গণভোট ঘিরে উত্তপ্ত ফেসবুক: হ্যাঁ–না পোস্টে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০২ এএম
গণভোট ঘিরে উত্তপ্ত ফেসবুক: হ্যাঁ–না পোস্টে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম


ডেস্ক রিপোর্ট:

মধ্যরাত পেরিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। গণভোট নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন এক অনলাইন লড়াই। নিউজফিডজুড়ে চলছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-এর পোস্টযুদ্ধ।


জানা গেছে, প্রস্তাবিত গণভোটের বিপক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে নতুন প্রচারণা শুরু করেছেন। বিভিন্ন প্রোফাইল ও পেজে ‘না’ শীর্ষক পোস্ট ও ব্যানার শেয়ার করে তারা গণভোটের বিরোধিতা করছেন।


অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবিতে গঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেসবুকে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে। সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারা সংক্ষিপ্তভাবে ‘হ্যাঁ’ লিখে একটি প্রচারণামূলক পোস্ট দিয়েছে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।


ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও নিজের প্রোফাইলে ‘না’ লিখে একটি পোস্ট দিয়েছেন। বিপরীতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতাকর্মী ‘হ্যাঁ’ পোস্টে অংশ নিচ্ছেন।


ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব: নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ


এদিকে, জাতীয় নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


গতকাল মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা হস্তান্তরের পর এ তথ্য জানান তিনি।


সকালে কমিশনের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার হাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায়সংক্রান্ত সুপারিশমালা তুলে দেয়। পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ড. আলী রীয়াজ বলেন, “আজই সব রাজনৈতিক দলকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সুপারিশমালা হস্তান্তর করা হবে। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়—এমন বিষয়গুলো সরকারি অধ্যাদেশের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”


তিনি আরও জানান, সংবিধানসংক্রান্ত বিষয়ে ৪৮টি নির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।


জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও এনসিপির ভূমিকা


ড. আলী রীয়াজ বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ তার প্রথম ৯ মাসের মধ্যেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবে। এই সংসদই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যদি পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।”


জুলাই সনদে স্বাক্ষর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেসব দল এখনো স্বাক্ষর করেনি, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। **জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)**র সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং তা অব্যাহত আছে। আমরা আশাবাদী, এনসিপিও শেষ পর্যন্ত সনদে স্বাক্ষর করবে।”