গণভবন কখনোই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল না: উপ প্রেসসচিব

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২১ পিএম
গণভবন কখনোই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল না: উপ প্রেসসচিব

ডেস্ক রিপোর্ট:

গণভবন কখনোই সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেসসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আজাদ মজুমদার বলেন, “কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে অনেকের মনেই দুঃখ—প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে কেন জাদুঘর বানাতে হবে। তাদের ভাষ্যে, জাদুঘর হবে জাদুঘরের জায়গায়। প্রথম কথা হচ্ছে, গণভবন কখনোই সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ছিল না। এটা মূলত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করতোয়া, যাকে পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বানানো হয়েছে। একটা সময় এখানে বসেই গুম, খুন, লুটপাটের সব আয়োজনসহ জুলাই হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে এরকম বহু স্থান পরে জাদুঘর বানানো হয়েছে। এর উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন—

পোল্যান্ডে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প এখন একটি জাদুঘর।

জাপানের হিরোশিমায় ১৯৪৫ সালের পারমাণবিক বোমা হামলার স্থান এখন শান্তি পার্ক ও জাদুঘর।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহৃত কু চি টানেল এখন যুদ্ধ জাদুঘর।

যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গ ব্যাটেলফিল্ড এখন জাতীয় সামরিক উদ্যান ও জাদুঘরের অংশ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলাকে যেখানে বন্দি রাখা হয়েছিল, সেই রোবেন আইল্যান্ড কারাগার এখন জাদুঘর।

ফ্রান্সের প্যারিসে বাস্তিল দুর্গ ভেঙে ফেলার পরও এর অংশবিশেষ সংরক্ষিত রয়েছে বিপ্লবের জাদুঘর হিসেবে।

ভারতের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যাস্থল এখন স্মৃতিস্তম্ভ ও জাদুঘর।

নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অ্যান ফ্রাঙ্ক পরিবারের লুকানোর স্থানও জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত।

উপ প্রেসসচিব বলেন, “গণভবন জাদুঘর হলে তাদেরই সমস্যা হবে, যাদের কাছে জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞ মামুলি ঘটনা। আসলে সমস্যা তাদেরই, যারা এখনো আশায় আছেন—সেই হত্যাকারীরা আবার ফিরে আসবে।”