ফিরে পাওয়া যায় না

প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
ফিরে পাওয়া যায় না

আমরা ছিলাম এক উঠোনে

তিন ভাই আর এক বোন,

কাঁচা মাটির বিশুদ্ধ ঘ্রাণে

হাসতো মোদের ছোট্ট জীবন।

বাঁশবাগানের ছায়া জুড়ে

দুপুর হতো গল্পে ভরা-

কখনো নদী, মাঠের পাড়ে

কখনো বৃষ্টির জলধারা।

মায়ের ডাকে ছুটে যেতাম

খাবার সময় হলে

বোনের যতনে পরিপাটি হতাম

আদর-স্নেহ মিলে। 

সন্ধ্যা হলে কেরোসিনের কুপি জ্বেলে

পাশাপাশি পড়তে বসতাম সকলে-

ছোট্ট হলেও তখনকার স্বপ্নগুলো 

খাঁটি ছিলো জীবনের মায়াগুলো।

চলমান জীবনের অমসৃণ যাপন 

সবাইকে দেয় দূর ঠিকানা,

একেক স্থানে একেক জন

আর কভু মিলনমেলা হয়না। 

যে ভাইটি কাঁদতো একদিন

ভাঙা খেলনা হারিয়ে গেলে,

সে নীরব মানুষ হয়ে রঙিন 

নিজেকেই রাখে অাড়ালে। 

যে ভাইটি হাসতো প্রাণ খুলে

বাতাসে তরঙ্গের শব্দ তুলে,

সে আজ ক্লান্ত জীবন বয়ে চলে

চুপটি থাকে সহস্র ভিড়ের কূলে।

পুরনো দিনের ধুলোমাখা

রাত্রি জেগে স্মৃতির দেখা, 

কেন মানুষ বড় হয়ে যায়

কেন স্মৃতিগুলো এতোই কাঁদায় ! 

একটা বোন ছিলো মোদের—

সবচেয়ে কোমল হৃদয় যার,

আজ তাঁর ঠিকানা পরপারের

দশ দুনিয়া জান্নাতের। 

সে আজ নেই 

পৃথিবীর কোনো পথেই,

কখনো ঘুমের মাঝেই

ভেসে আসে অন্ধকারেই।

তাঁর শুন্যতা আজও 

স্মরণে নিঃশব্দ যাতনা,

বছরের পর বছর গেলেও

আপনজনের মুখ কেউ ভোলেনা। 

বাস্তবতা বড় নিষ্ঠুর হয়ে 

মানুষকে বদলে দেয় ধীরে,

যে হাতগুলো একসাথে রয়ে 

আজ তারা দূরে-বহুদূরে।

তবু কোনো পুরোনো ছবি

হঠাৎ যখন চোখে পড়ে,

বুকের স্পন্দনে সবি

চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে হৃৎপিণ্ড নড়ে।

সময়ের কাছে হেরে গিয়ে

ভুলতে চাইলেও ভুলি না,

শৈশব নামের দূরত্ব নিয়ে 

চাইলেও কেউ ভুলে না।

জীবন শুধু বাঁচতে শেখায়

ফিরতে শেখায় না,

মানুষগুলো হারিয়ে যাওয়ায়

আবার কাছে আনায় না।

আজও কত রাতের শেষে

চোখের কোণে জমে জল,

কারণ কিছু স্মৃতি থাকে

আজীবনের অবিচল।

বেঁচে আছি পূর্ণতা 

নিজ নিজ ব্যস্ত জীবনে,

তবু কোথাও এক শুন্যতা

রয়ে গেছে গহীন গোপনে।

হয়তো একদিন আবার

সবাই মিলবো অন্য পারে,

সেদিন বোনটা হাসবে বারংবার—

"তোরা এতো দেরি করলে কেন রে ?"

সেদিন শৈশবের হবে পূর্ণতা 

থাকবে না কোনো দূরত্ব আর,

সময়ের সব নিষ্ঠুরতা

হার মানবে ভালোবাসার।

লেখক:

ওমায়ের আহমেদ শাওন