ঈদের আনন্দযাত্রা হলো শেষযাত্রা, প্রাণ গেলো ভগ্নিপতি- শ্যালকের,আহত বোন
সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন এক যুবক। সঙ্গে ছিলেন নববিবাহিতা স্ত্রী ও ১২ বছর বয়সী শ্যালক। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল দুইটি প্রাণ। মুহূর্তেই ঈদের আনন্দ পরিণত হলো শোকের মাতমে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ভগ্নিপতি ও শ্যালক, আর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিহত যুবকের স্ত্রী।
সোমবার (১ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজার- চানপাড়া আঞ্চলিক সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন সরকার (৩০) এবং তার শ্যালক কালাই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (১২)। আহত হয়েছেন ইমনের স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে মোটরসাইকেলে করে ক্ষেতলালের দিকে রওনা হন ইমন সরকার। মোটরসাইকেলে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন এবং শ্যালক ফেরদৌস। পথে খড়িকাটা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান তাদের ওপর উঠে যায়।এতে মোটরসাইকেল চালক ইমন সরকার এবং তার শ্যালক ফেরদৌস ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ইমনের স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঈদের আগমুহূর্তে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দুই পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধান কাটার মৌসুমে ওই আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা খড় ও ধান শুকানোর জন্য রাস্তার ওপর ছড়িয়ে রাখেন। এতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।তাদের ধারণা,সড়কে ছড়িয়ে থাকা খড়ের কারণে মোটরসাইকেলটি পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দুর্ঘটনাটি ঘটে।
খড়িকাটা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সড়কে ধান ও খড় শুকানোর বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বারবার দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ঈদের সময় সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি অসচেতনতা ও সড়কের ওপর ফসল শুকানোর প্রবণতা বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তারা ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।








