প্রেমের সম্পর্কের পর সন্তান, পিতৃত্ব অস্বীকারের অভিযোগে আদালতে মামলা
মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, সন্তান জন্মের পর পিতৃত্ব স্বীকারে অস্বীকৃতি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক নারী। আদালতের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে একই এলাকার এক নারীর প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হন এবং পরে একটি সন্তানের জন্ম দেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, সন্তান জন্মের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পর্ক অস্বীকার করেন এবং সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকৃতি দিতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। উল্টো বিভিন্ন মাধ্যমে আপসের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ মার্চ স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে থানায় যোগাযোগ করলেও পরে আদালতের শরণাপন্ন হন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩, চট্টগ্রামে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী বলেন, “প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা, কল রেকর্ড, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করব। আমি আমার সন্তানের স্বীকৃতি এবং ন্যায়বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী আরও দাবি করেছেন, অভিযুক্ত পক্ষ স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।








