কৃষি গুচ্ছ থেকে সরে আসছে বাকৃবি, ভাঙনের মুখে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২৯ এএম
কৃষি গুচ্ছ থেকে সরে আসছে বাকৃবি, ভাঙনের মুখে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছভুক্ত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে করে কয়েক বছর আগে শুরু হওয়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যৌথ ভর্তি পদ্ধতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে...

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতিতে নানা অসংগতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্বকীয়তা হারানোর আশঙ্কায় বাকৃবি এবার গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে নিজস্ব ব্যবস্থায় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে পারে বলে জানা গেছে।

এর আগেও বাকৃবি কয়েকবার গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছিল, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত গুচ্ছ পদ্ধতিতেই ভর্তি পরীক্ষা নেয়। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও, বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান এবার আরও স্পষ্ট ও দৃঢ় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের আগে টানা পাঁচবার কৃষি গুচ্ছের নেতৃত্ব দেয় বাকৃবি। এবারও তারা নেতৃত্বে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও, ভর্তি প্রক্রিয়ার নানা অসঙ্গতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে গুচ্ছ ছাড়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি.....

গুচ্ছ ভাঙনের আশঙ্কা:

বর্তমানে দেশের নয়টি কৃষি ও কৃষি-সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয় একত্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। এগুলো হলো—

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

এই গুচ্ছ পদ্ধতি চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ঝামেলা ও খরচ কমানো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মতানৈক্য, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় গুচ্ছের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উপাচার্যদের প্রতিক্রিয়া:

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষি গুচ্ছভুক্ত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন

“বাকৃবি এককভাবে নেতৃত্ব দিতে চায়। কিন্তু আমরা চাই বাই রোটেশন পদ্ধতিতে সব বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিক। বাকৃবি যদি গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে আমরাও বেরিয়ে যাব। সবাই হয়তো গুচ্ছ ছাড়বে। তবে আশা করছি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”

অন্যদিকে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন,

 “আমরা গতবার কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। বিশেষ অনুরোধে, রাষ্ট্রীয় অবস্থার কারণে বেরিয়ে আসতে পারিনি। আমাদের এ বিষয়ে চিঠিও দেওয়া ছিল। এবারও আমরা আগের অবস্থানেই আছি—আমরা কৃষি গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে আসব, এটাই আমাদের বর্তমান সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরও বলেন,

 “এখন মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই দ্রুত মিটিং করবে। আমরা তখন আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব। সরকার অনেক সময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। সবকিছু এখনো অনিশ্চিত।