কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিলো ১০ সাঁতারু

প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:২১ পিএম
কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিলো ১০ সাঁতারু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ার মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া দ্বীপ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ১০ জন সাঁতারু।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ওপেন ওয়াটার সুইমিং (বোয়াস)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই দুঃসাহসিক সাঁতার প্রতিযোগিতা।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেন— ফাহিম আহমেদ খান, নাছির আহমেদ, খন্দকার শওকত ওসমান, মোঃ নাজমুল হক, এস.আই.এম ফেরদৌস আলম, আব্দুল্লাহ আল সাবিত, রাব্বি রহমান, মোঃ মোজ্জিম হোসেন, মোহাম্মদ তাইএয়ার ও মোঃ আল আমিন।

অংশগ্রহণকারী ১০ জন সাঁতারুর মধ্যে ৪ জন সম্পূর্ণ দূরত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪ মিনিটে সবার আগে কুতুবদিয়ার দরবার জেটিতে পৌঁছান মাত্র ১৮ বছর বয়সী তরুণ রাব্বি রহমান। এটি তাঁর প্রথম চ্যানেল পাড়ি, এবং সময়ের দিক থেকে সবচেয়ে দ্রুততম রেকর্ড।

১ ঘণ্টা ৬ মিনিটে দ্বিতীয় হন ইংলিশ চ্যানেল জয়ী কিশোরগঞ্জের নাজমুল হক, আর ১ ঘণ্টা ৭ মিনিটে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন বগুড়ার এস.আই.এম ফেরদৌস আলম।

প্রতিযোগিতায় সাঁতারুরা কুতুবদিয়া-পেকুয়া চ্যানেলের তীব্র জোয়ার-ভাটার স্রোত ও ঢেউ উপেক্ষা করে তাদের অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক সক্ষমতার পরিচয় দেন।

সাঁতারু এস.আই.এম ফেরদৌস আলম বলেন,

“চ্যানেলের প্রথম অর্ধেকটা তুলনামূলক সহজ ছিল, কিন্তু শেষ অংশটা ছিল বেশ কঠিন। কুতুবদিয়া চ্যানেলে এবারই প্রথমবারের মতো পাড়ি দিলাম। এগুলো দুঃসাহসিক অভিযান— আমি এ পর্যন্ত সাতবার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং পানিতে ডুবে মৃত্যুহার কমানো, সাঁতারের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং পানি দূষণ রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করা।”

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের ওপেন ওয়াটার ইভেন্ট আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো সাঁতারের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলভিত্তিক পর্যটন ও ওয়াটার স্পোর্টসকে জনপ্রিয় করা। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি তরুণ এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নেবে, যা দেশের নদী-নির্ভর পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করবে।

প্রতিযোগিতা শেষে কুতুবদিয়া দরবার জেটিতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—

কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন, সাংবাদিক দেলোয়ার হোছাইন, পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবুল হক চৌধুরী, সমাজসেবক মোহাম্মদ আজম, ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।