কুড়িগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী আপন দুই ভাই

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৯ এএম
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী আপন দুই ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে তৈরি হয়েছে এক বিরল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই পরিবারের দুই ভাই এবার দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। এতে শুধু স্থানীয় রাজনীতি নয়, সারাদেশেই বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আলহাজ আজিজুর রহমান। তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামছেন। অন্যদিকে, তাঁরই ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক হাতে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতোমধ্যেই স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েরই শক্তিশালী ভোটভিত্তি থাকায় এবার এই দুই প্রার্থীর লড়াই নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন,

> “আমি ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম, তখন আমার ভাই মোস্তাক আমার কর্মী ছিল। এবার সে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছে। তবে আমাদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য, বিশেষ করে আমার চাচাতো ভাইয়েরা আমার পক্ষে আছেন। আমি স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়, চেয়ারম্যান হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তাই জামায়াত আমার ভাইকে প্রার্থী বানিয়ে কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে না। আমি নিশ্চিতভাবে জিতব।”

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন,

> “আমার ভাই বিএনপির প্রার্থী হয়েছে, এতে ভোটে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। কয়েকজন চাচাতো ভাই নিরপেক্ষ থাকলেও অনেকে আমার দিকেই ঝুঁকবেন বলে আশা করছি। আমি আগেই মাঠে নেমেছি, প্রচারণা চালাচ্ছি, তাই আমি জয় নিয়ে আশাবাদী।”

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ভোটাররা বলছেন, একই পরিবারের দুই প্রার্থীর মুখোমুখি লড়াই এই আসনের ভোটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপি-জামায়াতের ঐতিহ্যগত ভোটবণ্টনে ভাঙন ধরার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেবে। দুই ভাইয়ের ভিন্ন রাজনৈতিক প্রতীক—‘ধানের শীষ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’—এবার কেবল দলের নয়, পারিবারিক সম্মান ও প্রভাবেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।