কালাইয়ে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের উদ্যোগে ৫০০’র বেশি মানুষ পেলেন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা
সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় বিএনপির কেন্দ্রীয়
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দনের উদ্যোগে ও জার্মান ভিত্তিক মানবিক সংগঠন "অন্ধেরী হিলফী বন জার্মানী"-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বৈরাগীহাট সানসাইন কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে থাকেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা।চোখের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে ৫০০ জনেরও বেশি রোগী এদিন নিবন্ধন করে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।চিকিৎসাসেবায় ছিলেন ৪ জন অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞসহ একটি চিকিৎসক দল, যারা রোগীদের যথাযথভাবে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চশমা সবই বিনামূল্যে সরবরাহ করেন।
চোখের ছানিপড়া রোগীদেরও প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন জানান, চিকিৎসার অংশ হিসেবে ছানিপড়া রোগীদের তালিকা করে তাদের জন্য পরবর্তীতে ফ্রি অপারেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত তারিখে অপারেশন করানো হবে,এরজন্য রোগীদের কোনো ধরনের অর্থ ব্যয় করতে হবে না। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
চিকিৎসা নিতে আসা কাসিম উদ্দিন নামে এক ষাটোর্ধ্ব কৃষক বলেন, আমি কয়েক বছর ধরে চোখে ঝাপসা দেখি। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে বললেন ছানি পড়েছে। এখন তারা বলছে, ফ্রি অপারেশনের ব্যবস্থা করবেন। গরিব মানুষ, এমন সুযোগ না থাকলে আর কবে চিকিৎসা করাতে পারতাম?
স্থানীয় গৃহবধূ সালেহা বেগম জানান,আমার চোখে চুলকানি আর পানি পড়তো অনেকদিন ধরে। এখানে এসে চোখ চেক করিয়ে ওষুধ আর চশমা পেয়েছি। টাকা-পয়সা কিছুই লাগে নাই। আল্লাহ এই আয়োজনকারীদের ভালো করুক।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন বলেন, অনেক দিন ধরে ক্লাসে ঠিকমতো দেখতে পারতাম না। চশমার দরকার ছিল কিন্তু কিনে উঠতে পারিনি। আজকে বিনা খরচে চশমা পেয়ে খুব উপকার হয়েছে।
বিশিষ্ট সমাজসেবক মো.রুহুল আমিন বলেন, এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। এমন মানবিক উদ্যোগ আরও বেশি প্রয়োজন।
সানসাইন কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহিনুর ইসলাম বলেন,বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন একটি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকাবাসী খুবই খুশি। শিক্ষার্থীদের পরিবারও চিকিৎসা সেবা পেয়েছে,এটি বড় একটা সাহায্য।









