এতিম ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত দুম্বার মাংস ভাগ-বাটোয়ারা: বাঘাইছড়ি প্রশাসনের অনিয়মে প্রশ্নচিহ্ন

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০১ পিএম
এতিম ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত দুম্বার মাংস ভাগ-বাটোয়ারা: বাঘাইছড়ি প্রশাসনের অনিয়মে প্রশ্নচিহ্ন

মোঃ ইমরান হোসেন, বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সৌদি আরব সরকার কোরবানির দুম্বার মাংস বাংলাদেশে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে। তবে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় এর সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এতিম ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত এই মাংস কি প্রকৃতপক্ষে তাদের পৌঁছেছে, নাকি প্রশাসনের অভ্যন্তরে ভাগ-বাটোয়ারার শিকার হয়েছে?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দকৃত দুম্বার মাংসের একটি অংশ উপজেলা পরিষদ ও বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবে চলে গেছে। এতিমখানা ও দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও অনেকেই মাংস পাননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সহকারী  মোঃ জিহাদ জানিয়েছেন, রাঙামাটি জেলা থেকে বাঘাইছড়ির জন্য মোট ২২ কার্টুন দুম্বার মাংস পাঠানো হয়েছিল। প্রতিটি কার্টুনে আট প্যাকেট মাংস থাকায় মোট বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৫৫০ কেজি হওয়ার কথা। তবে উপজেলা পরিষদে পৌঁছানোর আগে এক কার্টুনের হদিস মিলেনি। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে এক করে কার্টুন দিয়েছি এবং তালিকাভুক্ত মাদ্রাসা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছি।”

জানা যায়, বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবে এক কার্টুন মাংস দেওয়া হয়েছে।প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ (বিজয় টিভি প্রতিনিধি), কোষাধ্যক্ষ মহিউদ্দিন (বাংলাদেশ বেতার, রাঙামাটি) নিশ্চিত করেন এবং বলেন প্রেসক্লাবের অংশটি উপজেলা পরিষদ থেকে গ্রহণ করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন। তবে অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, প্রেসক্লাবে দুটি কার্টুন মাংস সরবরাহ করা হয়েছে।

উপজেলার আটটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, তাঁদের ইউনিয়নে প্রত্যেককে একটি করে কার্টুন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসা দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রত্যেকে দুই প্যাকেট মাংস পেয়েছেন। এই হিসেবে তিন কার্টুন মাংস এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে বিতরণ হয়েছে।

মোট ১২ কার্টুনের তথ্য পাওয়া গেছে—প্রেসক্লাব, ইউনিয়ন পরিষদ, এতিমখানা ও মাদ্রাসার জন্য বিতরণ হওয়া এবং পথে উধাও হওয়া কার্টুনসহ। কিন্তু বরাদ্দ ছিল ২২ কার্টুন। বাকী ১০ কার্টুনের হদিস পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে—অবশিষ্ট মাংস কোথায় গেল?

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি মন্তব্য না করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে তাঁর অফিসে গেলে বা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এলাকাজুড়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোক্তার হোসেন সোহেল মন্তব্য করেন, “কয়জন প্রকৃত দুস্থ মানুষ এই মাংস পেয়েছে, তার জবাব দিতে হবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে।” আর খোরশেদ সিএইচটি বলেন, “কর্তৃপক্ষের সুন্দর মুখোশের আড়ালে চরিত্র উন্মোচনে দুম্বার মাংস বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।”

সচেতন মহল মনে করছেন, আগের ইউএনও শিরিন আক্তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হন। বর্তমান ইউএনও আমেনা মারজানের ওপর জনগণের আস্থা ছিল যে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। কিন্তু এতিম ও দরিদ্রদের প্রাপ্য মাংসের এই ভাগাভাগি প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এমতাবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।