এই বয়সে যদি সেফ এক্সিটের কথা ভাবতে হয় তা গভীর দুঃখের: উপদেষ্টা ফাওজুল
ডেস্ক রিপোর্ট:
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের বেহালদশা দেখতে গিয়ে বুধবার (৮ অক্টোবর) বিপাকে পড়েন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। ঘণ্টা দুয়েক যানজটে আটকে থাকার পর অবশেষে মোটরসাইকেলে চড়ে পথ চলতে হয় তাঁকে। তবে হেলমেট সংকটে পড়েন এই উপদেষ্টা—দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর একটিমাত্র হেলমেট পেয়ে সেটিই নিজে পরে যাত্রা শুরু করেন।
বুধবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘উপদেষ্টার রোজনামচা, চালকের হেলমেট নাই ও সেফ এক্সিট’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন ফাওজুল কবির। তাঁর এই লেখাটি শেয়ার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ট্রেনে ভৈরব, তারপর সড়কপথে বিপত্তি:
ফাওজুল কবির লিখেছেন, “গতকাল সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনে ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হই। সঙ্গে ছিলেন যাতায়াতখাত বিশেষজ্ঞ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মইনুদ্দিন, রেল ও সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। ট্রেনে ওঠার আগে কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শন করি এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলি। ভৈরবে পৌঁছে আশুগঞ্জ ট্রেন স্টেশন পরিদর্শনে যাই, যেখানে স্থানীয় বিএনপি–জামায়াত নেতাসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করি।”
আশুগঞ্জ স্টেশনের বেহাল অবস্থা ও নাগরিক ভোগান্তি তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, “মহিলা ও বৃদ্ধদের জন্য স্টেশনটিতে ওঠা–নামা অত্যন্ত কষ্টকর। সিগন্যালিংসহ বিভিন্ন ত্রুটি নিরসনে রেলের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছি।”
মহাসড়কে হেলমেটহীন চালক, পুলিশের অব্যবস্থাপনা:
এরপর সরাইলগামী পথে ভয়াবহ যানজটে আটকে পড়েন তিনি। পোস্টে উল্লেখ করেন, “সাত–আট কিলোমিটার যেতে এক ঘণ্টা লেগে যায়। কোনো অগ্রগতি না দেখে প্রথমে হেঁটে, পরে মোটরসাইকেলে রওনা দিই। কিন্তু চালক বা যাত্রীর কারও কাছেই হেলমেট নেই। অনেক খোঁজার পর একটিমাত্র হেলমেট পাই—অবশেষে সেটি নিজেই পরে যাত্রা করি।”
তিনি আরও লেখেন, “হাইওয়ে পুলিশের অদক্ষতা এবং চালকদের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণেই যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির ঠিকাদার কিছুদিন আগে কাজ বন্ধ করে দেয়। এখন পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।”
ফাওজুল কবির জানান, পুলিশের আইজিপির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ছয়টি জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন যাতে দ্রুত মহাসড়ক সংস্কার সম্পন্ন হয়।
“আমি অন্যায় সুবিধা নেইনি”
নিজের সততা ও দায়িত্ববোধের বিষয়ে উপদেষ্টা লেখেন, “আমি পদে থেকে কোনো আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিতকে চাকরি বা ব্যবসা দিইনি। যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ থাকলেও দেশেই দায়িত্ব পালন করছি। ৭২ বছরের বেশি বয়সেও প্রতিদিন মাঠে নেমে কাজ করছি জনগণের জন্য।”
এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া:
ফেসবুক পোস্টে ফাওজুল কবির জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য নিয়েও বলেন, “নাহিদ ইসলাম আমার স্নেহভাজন এবং জুলাই আন্দোলনের অগ্রসেনা। তাঁর বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করা শোভন নয়। তাছাড়া আমি রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলি না।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, “অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছে বা গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। অনেকে এখন সেফ এক্সিটের চিন্তা করছে।”
“৭২ বছর বয়সে সেফ এক্সিট ভাবতে হবে—এটাই দুঃখজনক”
নিজের পোস্টের শেষ অংশে ফাওজুল কবির খান লিখেছেন, “আজ ৭২ বছরের বেশি বয়সে আমাকে যদি সেফ এক্সিটের কথা ভাবতে হয়, তবে সেটি হবে গভীর দুঃখের বিষয়।
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের যানজট, হেলমেটহীন মোটরসাইকেলচালক, পুলিশের দুর্বল তদারকি ও সড়ক সংস্কারে ধীরগতি—সব মিলিয়ে ফাওজুল কবিরের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সরকারের সড়ক ব্যবস্থাপনার এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তাঁর পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।









