আজই প্রজ্ঞাপন চায় শিক্ষকরা, তবে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বাড়ি ভাতা বৃদ্ধিতে
মোঃ জাহেরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন আজ (বুধবার) জারির দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে এ প্রজ্ঞাপন আজই জারি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি শিক্ষা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া শতাংশ হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
শিক্ষকদের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তারা জানিয়েছেন, আপাতত ৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। পরবর্তীতে, অর্থাৎ আগামী জুলাই মাসে এটি ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’-এর এক যুগ্ম আহ্বায়ক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন,
> “মঙ্গলবার রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন উপসচিব ফোন করে জানিয়েছেন, ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি করা হবে।”
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট:
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। এ দাবিতে তারা গত ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
কর্মসূচির এক পর্যায়ে শিক্ষক নেতারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও, তা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ ঘোষণার পরদিন পুলিশ প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মচারীরা সোমবার থেকে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং সারা দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালন করছেন।
আজ (বুধবার) তারা রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি:
১. এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধি।
২. শিক্ষা জাতীয়করণে স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা।
৩. আন্দোলনে গ্রেপ্তার শিক্ষক-কর্মচারীদের নিঃশর্ত মুক্তি।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, বুধবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে তারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন এবং অবস্থান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে।









