শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তী সময়ে আর সেই সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—রায়ের পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপিল না করলে আর সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং আপিলও করেননি। আইনের ২১-এর ৩ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল না করলে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি আরও বলেন, পলাতক কিংবা কারাগারে থাকা—উভয় অবস্থাতেই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। একই নিয়ম শেখ হাসিনা ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। সেখানে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইন তুলে ধরা হয়েছে। তবে আপিল বিভাগ এখনো তাঁর আপিল গ্রহণ করেননি। ফলে এ বিষয়ে আপিল বিভাগে বর্তমানে কোনো বিচারিক কার্যক্রমও চলমান নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও বিষয়টি আইনগতভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এ কারণে তারা এ বিষয়ে আর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি বলে তিনি মনে করেন।

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কেউ আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ৩০ দিন পেরিয়ে গেলে তা বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলেই তিনি মনে করেন।

তবে সরকার চাইলে যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এটি সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা। সরকার চাইলে যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে।


এমকে/বিএম২৪