কালীগঞ্জ বিএনপিতে চার দশকের পরিচিত মুখ খায়রুল আহসান মিন্টু

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
কালীগঞ্জ বিএনপিতে চার দশকের পরিচিত মুখ খায়রুল আহসান মিন্টু

সূত্রঃ সংগৃহীত

মো. শাহনেওয়াজ;কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি


দীর্ঘ চার দশক ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জের খায়রুল আহসান মিন্টু। আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে তিনি একটি পরিচিত মুখ হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন খায়রুল আহসান মিন্টু। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে কালীগঞ্জ বিএনপিতে তার একটি স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে বলেও দাবি তাদের।

রাজনৈতিক জীবনে সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের নির্বাচিত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খায়রুল আহসান মিন্টু। পরে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে কাউন্সিলের মাধ্যমে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতেও তিনি কাজ করেছেন বলে জানান স্থানীয় নেতারা।

তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শফিকুর রহমান কামাল বলেন, তুমলিয়া ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার অধীনে থাকার সময় থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন খায়রুল আহসান মিন্টু। বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আলহাজ্ব আবদুল মতিন চৌধুরীর রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বে আস্থা রেখে তিনি মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তুমলিয়া ইউনিয়ন গাজীপুরের কালীগঞ্জের অন্তর্ভুক্ত হলেও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে।

শফিকুর রহমান কামাল আরও বলেন, বিএনপির বিভিন্ন সংকটময় সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন খায়রুল আহসান মিন্টু। দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

তুমলিয়া ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় অবস্থান থেকে সরে যাননি খায়রুল আহসান মিন্টু। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার পাশাপাশি দলীয় কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত রাখতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

তার মতে, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্বে স্থানীয় রাজনীতিতে খায়রুল আহসান মিন্টুর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।

তুমলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাসুদ শেখ বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন হিসেবে ২০২৫ সালের গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন খায়রুল আহসান মিন্টু। অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনৈতিক দক্ষতা ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খায়রুল আহসান মিন্টুকে নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা দেখা গেছে। তবে তার অনুসারীরা এসব অভিযোগ ও প্রচারণাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মূল্যায়ন সাময়িক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার ভিত্তিতে করা উচিত নয়।

তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক পথচলা একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই খায়রুল আহসান মিন্টু নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীলতার কারণে খায়রুল আহসান মিন্টু কালীগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে একজন অভিজ্ঞ সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

তাদের প্রত্যাশা, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলনের দিকনির্দেশনায় অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কালীগঞ্জসহ গাজীপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।


এমকে/বিএম২৪