বিতর্কের মুখে পিছু হটলেন ইনফান্তিনো, বাতিল ফিফার বিনিয়োগ পরিকল্পনা
সূত্রঃ ছবি: সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সদস্য দেশগুলোর ব্যাপক বিরোধিতা, বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি এবং ফিফার অভ্যন্তরীণ সমালোচনার মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
পরিকল্পনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, এই উদ্যোগটি ফুটবল পরিবারে এমন বিভাজনের সৃষ্টি করেছে, যা এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই প্রস্তাবটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, এখন তার লক্ষ্য ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবারও একত্রিত করা।
এই পরিকল্পনার আওতায় পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব ছিল। সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারতেন। সমর্থন আদায়ের জন্য ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেককে ৪ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
তবে শুরু থেকেই পরিকল্পনাটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। সংস্থাটির ৫৫ সদস্য দেশ ভোট দিয়ে জানিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করবে। পরে উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। একই অবস্থান নেয় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি), ফলে পরিকল্পনাটি অনুমোদনের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর অভিযোগ করেন, এই প্রকল্প সম্পর্কে ফিফার প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। তার ভাষায়, এটি ছিল মূলত একজন ব্যক্তির প্রকল্প। তিনি বলেন, একজন সভাপতির দায়িত্ব হলো সবাইকে একত্রিত করা, কিন্তু এই উদ্যোগ উল্টো বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইনফান্তিনোর বৈশ্বিক কৌশল ও সুশাসনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করে বলেন, এই পরিকল্পনা ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর এবং ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রস্তাবটির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং শুরু থেকেই তিনি এর বিরোধিতা করেছেন।
প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির সম্মিলিত বিরোধিতায় প্রায় ১৩৬টি সদস্য দেশের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পরিকল্পনাটি পাস হওয়ার সুযোগ প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হতো। সেখানে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে সদস্য ফেডারেশনগুলোকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল। বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের একটি নথিতে দাবি করা হয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে সদস্য ফেডারেশনগুলোকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিতরণ করা সম্ভব হবে।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, পুরো পরিকল্পনায় নারী ফুটবল বা নারী বিশ্বকাপের উন্নয়ন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না। এছাড়া প্রস্তাবটি নিয়ে ফিফার কয়েকজন সহ-সভাপতিকেও আগে থেকে অবহিত করা হয়নি বলে জানা গেছে।
আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফার ৭৭তম কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে লড়বেন ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। সম্প্রতি পর্যন্ত তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এই বিতর্কের পর তার অবস্থান আগের মতো শক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।









