জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে আদালতে গিয়েও হতাশ রিজওয়ান
সূত্রঃ সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্ক
পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। সংস্থাটির জিজ্ঞাসাবাদ ও নোটিশের বিরুদ্ধে লাহোর হাইকোর্টে রিট করেছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
গত বুধবার আইনজীবীদের মাধ্যমে লাহোর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন রিজওয়ান। আবেদনে বলা হয়, এনসিসিআইএ কেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেটে কথিত অনলাইন বাজি বা জুয়া-সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার সংস্থাটির নেই বলেও দাবি করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারক আলিয়া নীলম রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দেন।
রিজওয়ানের আইনজীবী কাজী উমাইর আলী আদালতে দাবি করেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নোটিশের মাধ্যমে এনসিসিআইএ বেআইনিভাবে রিজওয়ানকে তলব করেছিল। নোটিশ পাওয়ার পর রিজওয়ান ও আরেক ক্রিকেটার ইমাম-উল-হক ১০ সেপ্টেম্বর এনসিসিআইএর সামনে হাজিরও হয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্ত প্রক্রিয়া ও নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন রিজওয়ান।
শুনানির সময় বিচারপতি নীলম আবেদনটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে রিজওয়ানের আইনজীবীকে প্রথমে এনসিসিআইএর নোটিশের বিষয়ে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় রিজওয়ানের আইনজীবী জানান, ওই নোটিশের জবাব ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে রিজওয়ানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ‘প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট, ২০১৬’ এবং ২০২৫ সালে করা সংশোধনী অনুযায়ী অনলাইন বাজি ধরা কোনো ‘তফসিলভুক্ত অপরাধ’ নয়। তাই তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তকে হয়রানিমূলক ও সম্মানহানির উদ্দেশ্যে পরিচালিত ভিত্তিহীন অনুসন্ধান বলেও দাবি করা হয়।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার বা আটকের মতো সম্ভাব্য ‘জবরদস্তিমূলক’ পদক্ষেপের আশঙ্কার কথা জানিয়ে রিজওয়ান আদালতের কাছে নোটিশ বাতিল, তদন্ত বন্ধ এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ‘প্রতিকূল’ ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছিলেন।
এদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরে সিরিজ খোয়ায় পাকিস্তান। এরপর এক ম্যাচ বাকি থাকতেই রিজওয়ান-ইমামসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফিরিয়ে নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকেও দেশে ফেরানো হয়।
রিট আবেদনে আরও দাবি করা হয়, লর্ডস টেস্টের পরপরই রিজওয়ানের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টার দিকে পুরো দল যে হোটেলে অবস্থান করছিল, সেখানে রিজওয়ানকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে সরকারি একটি সংস্থার একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবীর দাবি, কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই ওই কর্মকর্তা রিজওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কোনো কারণ বা যৌক্তিকতা না দেখিয়েই তার মোবাইল ফোন জব্দ করেন। ফোন জব্দের বিষয়ে কোনো অনুমোদিত আদেশ বা নির্দেশনার কথাও রিজওয়ানকে জানানো হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রিজওয়ানের দাবি, ফোনটি তাকে এই আশ্বাসে দেওয়া হয়েছিল যে, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা শেষে তিন ঘণ্টার মধ্যে তা ফেরত দেওয়া হবে। তবে সেই আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।









