১৪ বছরেও ফেরেনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চান পরিবার

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১২ পিএম
১৪ বছরেও ফেরেনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চান পরিবার

সূত্রঃ সংগৃহীত

তারিকুজ্জামান মোল্লা, খুলনা ব্যুরো


ছেলের পথ চেয়ে দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ ১৪ বছর। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেলে ফিরে আসবে—এই আশায় দিন গড়িয়েছে, পেরিয়েছে যুগ। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হয়নি। সন্তানের ফেরার আশায় এখনো প্রহর গুনছেন বৃদ্ধ বাবা মাওলানা ফজলুর রহমান ও মা আফিফা রহমান।


২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে সাভারের নবীনগর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবির নেতা মো. ওয়ালিউল্লাহকে। একই সময় তুলে নেওয়া হয় ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল-মুকাদ্দাসকেও। এরপর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাস ঢাকায় যান। ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তারা ঢাকার কল্যাণপুর থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে (নম্বর-৩৭৫০) ওঠেন। বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে কল্যাণপুর ছাড়ে।


রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাসটি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে একটি কালো মাইক্রোবাস বাসটির গতিরোধ করে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, র‌্যাবের পোশাক পরা ৮-১০ জন এবং সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি বাসে উঠে নিজেদের র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। পরে তারা দুই তরুণকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যান।


এরপর থেকেই দুই পরিবারের অপেক্ষার শুরু। তারা জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন—এ প্রশ্নেরও কোনো উত্তর আজ পর্যন্ত মেলেনি।


ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), হাইকোর্টে রিট পিটিশন, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে প্রশাসনের কাছে যোগাযোগ করা হয়। আল-মুকাদ্দাসের চাচা আবদুল হাই দারুস সালাম থানায় এবং ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ আশুলিয়া থানায় জিডি করেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের সন্ধান মেলেনি।


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির আহ্বায়কের পদত্যাগ ও পরবর্তী প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে তদন্ত কার্যক্রমও মাঝপথে থেমে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় এ দেশের প্রেক্ষাপটে এর বিচার পাওয়া কঠিন।”


১৪ বছর ধরে ছেলের অপেক্ষায় থাকা মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, “সন্তান জীবিত থাকলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক, আর মারা গেলে অন্তত তার লাশের সন্ধানটুকু যেন দেওয়া হয়।”


দীর্ঘ ১৪ বছরেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান না মেলায় পরিবারগুলোর অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। তাদের নিখোঁজের ঘটনা রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


এমকে/বিএম২৪