সিংগাইরে একাধিক মামলার আসামি ‘ইয়াবা হুমায়ুন' আবারও গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
সিংগাইরে একাধিক মামলার আসামি ‘ইয়াবা হুমায়ুন' আবারও গ্রেপ্তার

সূত্রঃ সংগৃহীত

সোহরাব হোসেন,সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি


মানিকগঞ্জের সিংগাইরে একাধিক মামলার আসামি হুমায়ুন (৪০)নামের এক ব্যক্তিকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় সে 'ইয়াবা হুমায়ুন' নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর হামলা,বিস্ফোরকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা, পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 


হুমায়ুন উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত গাদুর ছেলে। শনিবার বিকেলে ধল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম।


পুলিশ জানায়, সিংগাইর বাসস্ট্যান্ডে প্যারামাউন্ট টাওয়ারের সামনে সংঘটিত বিস্ফোরকদ্রব্য-সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে হুমায়ুনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।


থানা ও মামলার নথি-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সিংগাইর প্রতিনিধি ও দৈনিক ফুলকি'র স্টাফ রিপোর্টার মাসুম বাদশাহ'র ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর-২৭। মামলায় হুমায়ুন চার্জসীটভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে।


এর কয়েকদিন পর সিংগাইর থানার তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার এসআই পার্থ শেখর ঘোষসহ দুই পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এসআই পার্থ শেখর ঘোষ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ২৯। ওই মামলাতেও হুমায়ুন আসামি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।


এ ছাড়া ধল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায়ও হুমায়ুন আসামি। এর আগে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধডজন মামলা চলমান রয়েছে। 


একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে হুমায়ুনের পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিলেন। এ ছাড়া তার বোন সালেহা জাহান জেলা যুব মহিলা লীগের নেত্রী থাকায় বিভিন্ন সুযোগও সুবিধা নিয়েছেন ওই পরিবারের লোকজন। 


স্থানীয় সূত্রের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর তার পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আসে।স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে হুমায়ুনসহ তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।  


এদিকে, হুমায়ুন গ্রেপ্তারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে সরকারদলীয় স্থানীয় কয়েকজন নেতার পক্ষ থেকে তদবির ও পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিতে নারাজ।


এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি মো.মাজহারুল ইসলাম বলেন,হুমায়ুনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। মামলাগুলোর তদন্তে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে , সেগুলোর ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



এমকে/বিএম২৪