সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে মানসম্মত শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: দেবপ্রিয়

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে মানসম্মত শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: দেবপ্রিয়

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়তে হলে আগে মানসম্মত শিক্ষার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।


‘সরকার কি প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপে প্রাথমিক শিক্ষা খাতের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম।


ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের শিক্ষা খাতে বর্তমানে তিনটি বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিতভাবে পাস করতে পারছে না। আবার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী সংকটে রয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে মেধাবীদের একটি বড় অংশ শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী নয়।


তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলতে হলে সবার আগে মানসম্মত শিক্ষার বাংলাদেশ হতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের উত্থান চাইলে তাদের সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানদেরও উপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে।


ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, যারা নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেন, সেই নতুন বন্দোবস্তে শিক্ষার অধিকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে শিক্ষা থেকে বঞ্চনার মতো বড় বৈষম্য দূর করতে হবে।


অনুষ্ঠানে সিপিডির নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষার সুযোগ ও অংশগ্রহণে নারী-পুরুষের সমতা বাড়লেও নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে-মেয়ের সমতা নিশ্চিত হলেও ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।


তিনি বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ালেই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে না। শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জীবনদক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য জিপিএ-নির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে বিতর্ক, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও জিপিএ-৫-কেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। কারণ শুধু জিপিএ-৫ কোনো শিক্ষার্থীর মেধা বা যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না।


সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়ে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি, বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা এবং ছেলে-মেয়ের সমতা অর্জনে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই অগ্রগতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।


বন্যা ও কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় ধাক্কায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বড় সংকট হিসেবে বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বিভাজনকে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সনদের মানের পার্থক্যের কারণে শিক্ষার্থীদের শিখনফল ও শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।


প্রতিবেদনে সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ২০০ দিন অতিক্রমের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করা হয়। এতে নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ইশতেহারের বাইরে নেওয়া নীতি ও পরিকল্পনা এবং বাজেটে এসব রাজনৈতিক অঙ্গীকারের যথাযথ প্রতিফলন হয়েছে কি না—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।


সিপিডির মতে, প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু প্রবেশের সুযোগ বাড়ালেই হবে না; শিক্ষাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং ঘোষিত নীতিগুলো আইনি কাঠামোর মাধ্যমে দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


এমকে/বিএম২৪