ঢাকা-রংপুর লংমার্চের ভোগড়া পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের এক দফার হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ এএম
ঢাকা-রংপুর লংমার্চের ভোগড়া পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের এক দফার হুঁশিয়ারি

সূত্রঃ বিডি মেইল

আমান উল্যাহ আমান, গাজীপুর প্রতিনিধি


ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আয়োজিত এ পথসভায় গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক দফা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন জোটের নেতারা।


পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধসহ সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবি আদায়েই এ লংমার্চ। এটি কোনো দলের একক দাবি নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের দাবি।


তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা উপেক্ষা করা হয়েছে। জনগণের সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্তমানে ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন হলেও জনগণের প্রয়োজন হলে তা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে।


কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, তারা সুশাসন ও চাঁদাবাজ-দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চান। দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। সংস্কার না হলে এক দফা অর্থাৎ সরকারের বিদায়ের আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


আল্লামা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের গণরায় কার্যকর করা ছাড়া সরকারের সামনে অন্য কোনো পথ নেই। তিনি জুলাইয়ের গুম-খুনের বিচার দাবি করে তিস্তা ব্যারেজ ও তিস্তা নদী নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি।


জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ক্ষমতাসীনরা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। তিস্তাপাড়ের মানুষের স্বার্থে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।


মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেশে যেন নতুন করে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের সৃষ্টি না হয় এবং লুটপাট ও সম্পদ পাচার বন্ধ থাকে, সে জন্য তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ সময় তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওসমান হাদীর নাম উল্লেখ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।



পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা।


গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে পথসভাটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি আ স ম ফারুক।


এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর, ঢাকা উত্তর অঞ্চলের পরিচালক আব্দুর রব, লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, গাজীপুর জেলা আমীর ড. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর সিটি মেয়র পদপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমীর মো. খায়রুল হাসান, এনসিপি নেতা আলী নাসের খান, সাবেক সচিব শাহ আলম বখশী ও খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি মুফতি ফারুক আহমেদ রোমানী।


পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর নায়েবে আমীর মুহাম্মদ হোসেন আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শফি উদ্দীন, মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইসমাইল পাঠানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে।