শরীয়তপুরে আদালতের নির্দেশের পরও জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩১ এএম
শরীয়তপুরে আদালতের নির্দেশের পরও জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

ছবি: বিডি মেইল

রবিউল মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি


শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর এলাকায় আদালতে মামলা চলমান থাকা এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ থাকার পরও পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিকানা দাবি করা একটি প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি দখল ও নির্মাণকাজের পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতা এবং বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন হাওলাদারের মদত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


পরিবারটির সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চন্দ্রপুর এলাকায় ৭০ দশমিক ৩৭ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি চলমান রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।


ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতের নোটিশে বিরোধের উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা থাকার পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে পাকা ভবন নির্মাণের পাশাপাশি জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।


পরিবারটির অভিযোগ, মামলার নোটিশে দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখিত খবির খাঁ, কবির খাঁ ও আলেকচাঁদ সরদার জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।


ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।


তাঁদের প্রশ্ন, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের আইনগত ভিত্তি কী এবং আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


এ অবস্থায় জমির প্রকৃত অবস্থা তদন্ত, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা হবে।