পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন, কাজ করছে ১২ ইউনিট

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ এএম
পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন, কাজ করছে ১২ ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক


পুরান ঢাকার চকবাজারের কাটরা মসজিদ এলাকার মনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন প্রায় সাত ঘণ্টা পরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের সঙ্গে স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিট কাজ করছে।


সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান এসব তথ্য জানান।


তিনি বলেন, সরু রাস্তা, ভবনের কাঠামোগত জটিলতা এবং গুদামে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।


মাহমুদুল হাসান জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়।


ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির কসমেটিকস ও ব্যাগের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে আগুন বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটিতে একাধিক গুদাম রয়েছে। এসব গুদামে প্রচুর মালামাল মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে।


ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, সরু রাস্তার কারণে বিশেষায়িত ও ভারী গাড়ি ঘটনাস্থলে নেওয়া কঠিন হচ্ছে। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া আগুন ঝুঁকি নিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন কর্মীরা। কিছুক্ষণের মধ্যে কিংবা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আশা থাকলেও গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল থাকায় ঠিক কতক্ষণ লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কাছে হতাহতের কোনো খবর নেই। তবে প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের দুজন কর্মী প্রাথমিকভাবে আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


ভবনটির ষষ্ঠ তলায় থাকা মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে। পঞ্চম তলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম। পুরান ঢাকার ভবনগুলোর কাঠামো ও দোকানগুলোর বিন্যাসের কারণে আগুনে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।


আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রায় ১৫০ জন সদস্য কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করছেন। সব মিলিয়ে ঘটনাস্থলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন কাজ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান মাহমুদুল হাসান।


এমকে/বিডিমেইল২৪