নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মায় ইলিশ শিকার, আটক ১৫ জেলে

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ এএম
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মায় ইলিশ শিকার, আটক ১৫ জেলে

ছবি: সংগৃহীত

রবিউল মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি


সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারের অভিযোগে পৃথক দুই অভিযানে ১৫ জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ এবং অপর দুজনকে নৌ পুলিশ, উপজেলা মৎস্য কার্যালয় ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে আটক করা হয়।


সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনব্যাপী পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।


মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিনভর অভিযান চালিয়ে ১৩ জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও প্রায় ৭ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়।


আটক ১৩ জেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় এবং তিনজনের বিরুদ্ধে জাজিরা থানায় মামলা হয়েছে। জব্দ করা ট্রলারগুলোর বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।


অন্যদিকে, পৃথক যৌথ অভিযানে আটক দুই জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জাজিরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।


মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কংকন কুমার বিশ্বাস বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে আটক ১৩ জেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক অভিযানে আটক দুই জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ। এ সময়ে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ রয়েছে। মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।