রুমিন ফারহানা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
রুমিন ফারহানা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান, আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি এবং বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকার।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের সিভিল জজ ও নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য আশরাফুল ইসলামের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি প্রেরণ করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানের বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানা ও তার সহযোগীরা একাধিকবার বেয়াদবিপূর্ণ ও হুমকিমূলক আচরণ করেন। এ সময় রুমিন ফারহানা ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও আঙুল উঁচিয়ে ইংরেজিতে বলেন, “This is the last time I warning you, I will not listen to this.”

অভিযোগে আরও বলা হয়, বাংলায় তিনি বলেন— “আপনি পারলে থামাই দেন, আজকে ভদ্রতা দেখাচ্ছি, নেক্সট টাইম কিন্তু এই ভদ্রতা করব না।” তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন, “বুইড়া আঙুল দেখায়, আপনারা কিচ্ছু করতে পারেন না।”

একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা উপস্থিত জনতাকে ইঙ্গিত করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, “আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম, আমার এই মানুষ, এইখান থেকে বাইর হইতে পারবেন না—মাথায় রাইখেন।”

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, জুয়েল মিয়াসহ অন্যান্যরা মারমুখী আচরণ করেন, যা বিচারিক কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদানের শামিল।

এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়, এর আগেও গত ১১ জানুয়ারি রুমিন ফারহানার এক সমর্থক আশিকুর রহমানকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অর্থাৎ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনের দ্বিতীয় ঘটনা রেকর্ড হলো।

প্রশাসনের নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বিষয়টি অবগতিপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পরিশেষে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিচারিক কাজে বাধা প্রদান ও সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া গুরুতর অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বা/মে২৪/ফা