রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়ায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু
সূত্রঃ সংগৃহীত
চাই সুই উ মারমা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় ইমন দাশ (৩০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া গ্রামের প্রবীর শীলের বাড়ি থেকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইমন দাশ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ব্রাহ্মণহাট এলাকার স্বপন কান্তি দাশের ছেলে।
নিহতের জেঠাতো ভাই কাঞ্চন দাশ জানান, মঙ্গলবার সকালে মোবাইল ফোনে খবর দেওয়া হয়, ইমন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে দুলাল দে (তনয়) ও অজয় নামে দুই ব্যক্তি তাকে চিকিৎসার জন্য চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ারে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ইমন দাশকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তার স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ রাউজানে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, প্রবীর শীলের পরিবারের সঙ্গে ইমনের যোগাযোগ ছিল। সুবর্ণা নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিমুল দাশ বলেন, প্রবীর শীলের বাড়িতে ইমনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান বলে তিনি জানতে পেরেছেন। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চন্দ্রঘোনা থানার উপপরিদর্শক আক্তারুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ প্রবীর শীলের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে। এ সময় দুই নারীকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ইমন অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন, নাকি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে নিহতের জেঠাতো ভাই কাঞ্চন দাশ দাবি করেন, ইমনের সৎকারের সময় তার শরীরের হাঁটু ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তার মৃত্যুর পেছনে দুলাল দে ও তনয় নামে এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমকে/বিএম২৪









